অসাধারণ একটা ফোরাম "আমাদের প্রযুক্তি"। অথচ,কিছুদিন চলতি হাওয়া থেকে মুখ লুকিয়ে থাকার কারণে যদ্দিনে আমি এই ফোরামটা খুঁজে পেলাম তদ্দিনে ফোরামের বয়স ৫/৬ মাস হয়ে গেছে। ফোরামে নিয়মিত হবার পর আমি প্রথম ধাক্কাটা খাই যখন দেখি ফোরামে লিনাক্সের জয়-জয়কার। এক জীবনে রেডহ্যাট ,ফেদোরা, সুসে আর ক্ল্যাক্স ছাড়া আর কোন লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবহার না করা এই আমি খানিকটা থমকে গিয়েছিলাম "উবুন্টু ছড়াও" আন্দোলনের পূর্বাভাস দেখে। আমি তখন পুরো দস্তুর উইন্ডোজ ব্যবহারকারী। কয়েকটা মাথা এলোমেলো করা কোর্স শেষে উইন্ডোজ এবং ম্যাকের কাস্টোমার সাপোর্টের কাজ করছিলাম। শুরু করলাম লাইভ সিডি দিয়ে উবুন্টুর ব্যবহার। জিনোম ভার্সন আমার কাছে মনে হলো সুপারফাস্ট আর তখুনি ঠিক করলাম উইন্ডোজ নামের ঠেলাগাড়ি আর না। এখন আমি এক হিসাবে পুরোপুরি উবুন্টেরো। নেহায়েত কাজের খাতিরে যতটুকু সময় উইন্ডোজে থাকা হয় সেটুকুই। যাই হোক, যতক্ষণে আমি একটু আত্মতৃপ্তির স্বাদ পাচ্ছি মুক্ত জীবন যাপনের মাধ্যমে, তখুনি লক্ষ্য করলাম, কিছু উইন্ডোজ প্রেমী বন্ধু ফোরামে এসে "পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়ার" চেষ্টা করছেন। লিনাক্সের ভক্তরাও কম যান না, কেউ কেউ বলা শুরু করলেন, উইন্ডোজ মানেই চুরি আর লিনাক্স মানেই সাধু। অযৌক্তিক এসব কাণ্ডকারখানা দেখে গত মাস তিনেক আগে এই লেখাটা শুরু করেছিলাম। তখন এই ফোরামের নিবেদিতপ্রাণ উবুন্টুপ্রেমী তানভীর (আলোকিত) এবং একটু বেশি মাত্রায় লিনাক্স ভক্ত তারিক (আশাবাদী) এই বিষয়ে বেশ মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে চলতি হাওয়ার চাপ বুঝতে সাহায্য করেছে।
সে যাই হোক, এসব তো গেলো শুরুর আগের কথা। তারিক আর তানভীরের সাথে কথা বলার সময় একটা লেখা দেবার কথা উঠেছিল। গেল আগস্টে শুরু করেও আর দেয়া হয়ে ওঠে নি। নিচে লেখাটা দিলাম। এখন অবস্থা হয়তোবা বদলেছে, কিন্তু লেখাটা ফেলে দিতে ইচ্ছা করছে না। হাতে সময় থাকলে পড়তে পারেন। কেউ কেউ মজা পেতে পারেন।
______________________________________________________
মূল রচনা:
আমার এক ভারতীয় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বন্ধু শ্রাভানের কয়েকটা মজার তত্ব আছে।
প্রথম তত্ত্ব: এই দুনিয়ায় কোন কিছুই ফাও বা নির্মূল্য না।
দ্বিতীয় তত্ত্ব: যুক্তি যাই হোক না কেন, চুরি তো চুরি-ই।
তৃতীয় তত্ত্ব: প্রয়োজনীয়তাই উদ্ভাবনের জনক কিন্তু, প্রয়োজন নৈতিকতার উর্দ্ধে নয়।
বেচারা শ্রাভানের শেষ কথাটা নিয়ে অনেকবার আমরা অনেকবার অনেক জায়গাতেই তর্ক করেছি। তবে শুধু তর্কের খাতিরেই! বাস্তবে যখন নিজের বিবেককে প্রশ্ন করেছি, দ্বিমত করতে পারিনি।
যুক্তি এবং কু-যুক্তি
আমরা মাঝে মাঝেই হুজুগে পড়া মানুষজন দেখে থাকি। ছোট বেলায় পড়েছিলাম, "হুজুগে বাঙালী , হেকমতে চীন"। এখন বুঝি এর মর্ম। তবে, কেবল বাঙালি না সারা দুনিয়ায়-ই এমন পাগলের অভাব নেই। রবিনহুডের কাহিনী পড়ে অনেকেই নিজেকে রবিনহুড ভাবতে শুরু করেন, ব্যাংক ডাকাতিও করে বসে। ঠিক যেমন, অতি ধর্মোৎসাহী হয়ে কেউ কেউ নিজ নিজ ধর্মের "জ্যাক দ্যা রিপার" হয়ে পড়েন। কিন্তু, আমরা ঠিক ক'জন নিজের দাঁড়া করানো যুক্তির যৌক্তিকতা খুঁজে দেখি? আজকে যারা মাঝ বয়সের শেষ আলো দেখছেন, তারা একবার নিজেদের কৈশোরের কথা ভাবুন, দেখবেন কত কিছুই না করেছেন। একটা সময় ছিল, স্কুল পালিয়ে সিনেমায় যেত অনেকে, এখনকার প্রজন্ম অনেক এগিয়ে গেছে। তারপরেও আপনি কি চাইবেন আপনার ষষ্ঠ শ্রেণী পড়ুয়া ছেলেটা আজে বাজে ছবি দেখুক কিংবা এডাল্ট সাইট নিয়ে পড়ে থাকুক? আপনিও জানেন, আমিও জানি সেগুলো তার জন্য ক্ষতিকর, কিন্তু , তার কাছে কিন্তু সেটার সপক্ষে যুক্তিও থাকতে পারে, যা সঠিক নাও হতে পারে। সুতরাং, সব যুক্তি কিন্তু যুক্তি নয়।
সামাজিক জীবনে যদি সব যুক্তি, যুক্তি না হয়, সফটওয়্যারের জগতে হবে কেন?
পাইরেসী কি?
সাদা ভাষায়, পাইরেসী হলো দস্যুতা। দস্যুতা না বলে আরো সহজ করার জন্য "চুরি" বলতে পারি। পাইরেসী নিয়ে এক প্যারা বা এক লাইনে তো বলা যাবে না, তাই একটু বিশদ আকারেই বলি।
- চুরি কি?
ছোট বেলায় শিখেছিলাম, কারও জিনিস তাকে না বলে নেয়াটাই চুরি। বড় হতে হতে শিখেছি, আমার আয়ত্তের বাইরে বা আমার জন্য অ-অনুমোদিত কোন বস্তু বা বিষয় নিজের করায়ত্তের ভিতরে আনাটাই চুরি। লক্ষ্য করুন, যা আমার আয়ত্তের বাইরে, যা আমার জন্য অনুমোদিত নয় বা যা কিছু আমার প্রাপ্য নয় সেটাকে করায়ত্ত করাই কিন্তু চুরি।
আয়ত্তের বাইরে:
আয়ত্তের বাইরে বলতে বুঝানো যেতে পারে , যে জিনিসটি আমার যোগ্যতার বিচারে পাওনা নয়।
অনুমোদিত নয়:
অনুমোদন করার অধিকার উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের থাকে। যেমন, অনেক দেশে পরীক্ষায় সূত্র সরবরাহ করা হয়। অস্ট্রেলিয়ান কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু কোর্সে ডিকশনারী পরীক্ষায় নিতে দেয়। এগুলো অনুমোদিত উপায়। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত পরীক্ষায় লাপ্লাস ট্রান্সফর্মেশন টেবিল দেয়া থাকে, কিন্তু, কমিউনিকেশন বা কন্ট্রোল সিসটেমের পরীক্ষায় নিজের মাথা থেকে ফরমুলা মনে করে বের করতে হয়। এখন, কমিউনিকেশন পরীক্ষায় যদি ফরমুলা কোথাও থেকে দেখে লিখি সেটা হবে অ-অনুমোদিত।
প্রাপ্য নয়:
কি প্রাপ্য আর কি নয়, সেটা বুঝতে হলে আগে নিজের সীমা বুঝতে হবে। আমি নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে যদি ভাব ধরে থাকি যে মাসে ৫০ হাজার টাকার নিচে চাকরি করবো না, সেটা কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমার একটা নাজায়েজ আব্দার হবে , যেখানে গড়পড়তা ২০-২৫ হাজারের উপর "স্টার্টিং স্যালারি" নেই।
চুরি কখন গ্রহণযোগ্য?
এক কথায়, "কখনোই না"।
ঘর বাড়ির চুরি আমরা সবাই জানি। আমি গ্রামে বেড়াতে গেলাম আর চোর দরজা ভেঙ্গে ঢুকে কিছু নিয়ে গেলো সেটাই চুরি। এখন, বেচারা খেতে পায় না, পরার কাপড় নেই, ছেলে-মেয়েদের পড়াতে পারে না। তাই আমার তালা ভেঙ্গে ঢুকে টিভিটা নিয়ে গেল বেচে টাকা আয় করতে। তার পক্ষ থেকে অকাট্য যুক্তি। আমার দিক থেকে ?? আসলে চুরি কখনোই নৈতিক না। চুরি করা টাকায় ছেলেমেয়ে পেলে-পুষে শেষকালে শুনতে হতে পারে, "খালি জন্মই দিছিলা, খাওয়াইছো তো চুরি করে!"
একটা দৃশ্য চিন্তা করুন তো! আপনি বা আমি নতুন নতুন ডাব্লিউএমএল শিখে একটা ছোট "হেলো ওয়ার্ল্ড" টাইপ মোবাইল এপ্লিকেশন বানানোর জন্য অস্থির হয়ে যাই! পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে দেবার জন্য ছুটে বেড়াই। এখন কেউ যদি আপনার সাধের সফটওয়্যারটা নাম বদলে নিজের নামে বাজারে ছেড়ে দেয়, হোক না সেটা বিনামূল্যে, আপনি কি খুব একটা খুশি হবেন? হয়তোবা ঐ বেটার মুণ্ডু চিবানোর মত নৃশংস মনোবাসনাও তৈরি হতে পারে।
এবার বলুন, এডোবি ফটোশপের সিডি চুরি করলে (যেভাবেই করা হোক) সেটা কেন বৈধ হবে?
কম্পিউটারের জগতে অসম্ভব বলে খুব কম জিনিস-ই আছে। এক মাত্র ট্রানজিস্টরের পরিমাণ বাড়া আর হার্ডওয়্যারজনিত সীমাবদ্ধতা ছাড়া, উপরওয়ালার দেয়া বুদ্ধি খাটিয়ে মানুষ প্রায় অসম্ভব সব কিছুকেই সম্ভব করে ফেলেছে। এখন, একজন কারিগর অনেক কষ্টে এক গাদা কোড লিখে আঙুল ভেঙ্গে একটা সফটওয়্যার বাজারে ছাড়ার কয়দিন পরেই যদি মুস্তাফিজ নামের একটা পুঁচকে ছেলে সেটার খালি নাম বদলে নিজের মত করে সেটাকে বাজারজাত শুরু করে তাহলে সেটাকে কি বলব?
কারিগর যা করেছে _______________________| মুস্তাফিজ যা করেছে[/u]
মাথা খাটিয়ে মূল কম্বিনেশন বের করেছে___________মাথা কাটিয়ে চুরির উপায় বের করেছে
বাজারজাত করেছে ______________________বাজারজাত করেছে
টাকা খরচ করেছে_______________________টাকা খরচ করেছে
দিনশেষে কেবল আরেকজনের কাজ না জানিয়ে "মেরে" দেয়ার কারণেই এটাকে চুরি বলা হলো। যদি, মুস্তাফিজ কারিগরকে বলে নিত যে "ভাই আমি আপনার টা মডিফাই করে বাজারজাত করতে চাই"; তাহলেই কিন্তু, (যদি কারিগর অনুমতি দেয়) বিক্রিটা বৈধ হয়ে যায়।
পাইরেসি আর চুরি : আমরা কোথায়?
দেখুন, একজন ব্যবসায়ী যখন ব্যবসা করেন তখন তিনি লাভের কথা অবশ্যই ভাববেন। গলির মাথার দোকানদার এক কেজি ডালের দাম ২০ টাকা চাইতে পারেন যখন হয়তো বা বড় বাজারে সেটা ১৫ টাকা। আপনার না পোষালে আধা মাইল হেঁটে বড় বাজারে যান। আপনি সেসময় কিন্তু গলির মোড়ের দোকান ভেঙ্গে ডাল চুরি করতে যাবেন না! ঠিক তেমনি, বিজয় ২০০০ বা উইন্ডোজ এক্সপি বা এডোবি ফটোশপ-এর গলাকাটা দাম এর বিক্রেতা চাইতেই পারেন, আপনার না পোষালে ব্যবহার করবেন না! অযথা কেন তাদের প্রাপ্য থেকে আপনি বঞ্চিত করবেন? এটা পরের কথা যে মূল্য নির্ধারণ শোভন উপায়ে করা হয়েছে না-কি!
আমরা ভাবি আমরা গরীব বলেই বোধহয় চুরির সব অধিকার আমাদের আছে! ১৭৫৭-১৯৪৭ এর ফিরিংগি শোষণ , '৪৭-'৭১ এর পাকিস্তানি শোষণ এসবের প্রতিবাদ করেছেন আমাদের পূর্বপুরুষরা, প্রাণ দিয়েছেন, এখন আমরা যদি অবৈধ ভাবে অন্যের অধিকার (হোক সে এডোবি কিংবা মাইক্রোসফট) হরণ করতে থাকি সেটা কি আমাদের কে ঐ সব ঘৃণ্য চোরের কাতারে শামিল করে না?
উঠতে বসতে আমরা ঘুষখোর সরকারী কর্মচারীদের দোষ দেই, দুর্নীতিপরায়ণ নেতা বা লোকজনের প্রতি ঘৃণার বৃষ্টি ঝড়াই! কিন্তু নিজেই আবার ভিবুলেটিন এর নালড কপি দিয়ে দুর্নীতি বিরোধী সাইট বানাই! আমরা কোথায় আছি?
আমরা কি করি???
আমরা যারা পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করি, আমাদের মাথায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিচের মত কিছু চিন্তাভাবনা কাজ করে।
আমরা সচরাচর মনে করি ভালো কাজ করার জন্য ভালো সফটওয়্যার দরকার। কেনার সামর্থ্য নেই, সুতরাং পাইরেটেড ভার্সন ব্যবহার করি। আমি তো আর কারো পিসি হ্যাক করতেছি না কাউকে মেরেও ফেলছি না, সুতরাং আমার এই কাজটা খারাপ কিছু না।
আমিও তো দোকানদারের কাছ থেকে কিনে ব্যবহার করছি। টাকা তো আমারো যাচ্ছে।
আর, মাইক্রোসফট মনোপলি করে বেড়াবে ওদেরকেও কিছু লস খাওয়ানোর দরকার আছে।
বেটারা আমাদের মাথা ভাইংগে খাইছে, আর এখন আসছে কপিরাইট শিখাইতে!
এখন, যুক্তি দিতে গিয়ে এসব কথা আমরা অনেকেই বলি। শুধু যে বলি তাই না, বেশ জোশের সাথে বলি। কারো কারো সাথে কথা বলতে গেলে তো নিজেকে রীতিমত হুমকির সম্মুখীন মনে হয়।
এখন আসল ব্যাপারটা হলো, আমরা যারা এলিফেন্ট রোড/আইডিবি ভবন থেকে পাইরেটেড সিডি কিনে আনি , আমরা দাম ঠিক-ই দেই কিন্তু সেটা আসল ডেভেলোপারের জন্য না, যারা চুরি করছে তাদের জন্য। মাইক্রোসফটের কথাই ধরা যাক, আসল উইন্ডোজ আর নকল উইন্ডোজের পার্থক্য কি? প্রথম পার্থক্য , আসল উইন্ডোজে কিছু ফিচার থাকে যেগুলোর কারণে, আসল সিরিয়াল নাম্বার ছাড়া ইনস্টল করা যায় না। এখন এই ফিচার বন্ধ করতে গিয়ে ক্র্যাকাররা উইন্ডোজের আসল সিকিউরিটি সিসটেম বা ফিচারগুলো (ভালো-কিবা-মন্দ) ডিজেবল করে দেয়। আপনার মেশিন ধীর হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে, মাঝে মাঝে হ্যাং হওয়া বা সিসটেম জ্যাম হয়ে যাওয়া এরকম অনেক সমস্যার কারণ কিন্তু পাইরেটেড ভার্সন ব্যবহার করা। আমি নিজেও হয়তোবা আজন্ম সাধু না। আমিও কিছু বুঝে ওঠবার আগে উইন্ডোজের পাইরেটেডে ভার্সন ব্যবহার করেছি, আর এখন জেনুইন ব্যবহার করছি। আসল পার্থক্য দেখা দেয় যখন আসল ভেন্ডর সফটওয়্যার ইনস্টল করি। কারণ সেগুলো তো বানায় আসল উইন্ডোজের জন্য বা অপারেটিং সিসটেমের জন্য। সেখানে আমরা নকলটাতে ইনস্টল করতে গেলে কিছু ফিচার সংকট দেখা দেয় , যেগুলো হয়তবা জীবনেও আসল অপারেটিং সিসটেমে দেখা দিত না।
যাই হোক আমার এই লেখা উদ্দেশ্য ট্রাবলশুটিং এর ফাঁক ফোকর দেখানো নয়।
উইন্ডোজ মানেই কি তবে পাইরেসি?
আমি যখন প্রথম কম্পিউটার চালানো শিখি, আমার এবং আমার পরিচিত মহলের ধারণা ছিল, কালো/সাদা একটা বাক্স আর একটা টিভির মতন জিনিস কিনলেই সেটার ভেতরে লেখালেখি করা যাবে, গান শোনা যাবে! কেউ কোন দিন বলেও নি যে সফটওয়্যারগুলো কিনতে হয়। এখনো মনে পড়ে সেই দিনগুলো, যখন পাগলের মত সফটওয়্যার সিডি থেকে কপি করে ইনস্টল করে বাহাদুরি দেখাতাম বন্ধুদের সামনে! ভাবখানা এমন ছিল যে যার যত লেটেস্ট সফটওয়্যার বুঝিবা সেই একেকটা কমপিউটারের জাহাজ! চোখ খোলার সাথে সাথে বুঝেছি যে ব্যাপারটা তা না। সময়ের সাথে এও বুঝেছি যে উইন্ডোজ মানেই পাইরেসি না!
এমন ভাবা ভুল যে উইন্ডোজ খুব খারাপ আর লিনাক্স দুনিয়ার সেরা! আসলে আপনি যেখানেই যে মাধ্যমই ব্যবহার করুন, সততার বিকল্প নেই! আমি যদি মজিলা ফায়ারফক্সের নিয়ম না মেনে ব্যবহার করি তাহলে সেটা বেআইনি হবে। ভয় পাবেন না! আপনাকে আটকাচ্ছি না! আমরা সবাই জানি যে, ফায়ারফক্স একটা বিনামূল্যে পাওয়া যায় এমন সফটওয়্যার। এখন, আপনি যখন ফায়ারফক্স ইনস্টল করেন, সেখানে কিন্তু আপনাকে একটা "লাইসেন্স এগ্রিমেন্ট" বা "চুক্তিপত্র" স্বীকার করতে হয়। আমার জানামতে সেখানে এমন কিছু থাকে না যা সাধারণ মানুষের বুঝবার দরকার পড়বে খুব একটা বা বুঝলেও এমন কিছু নেই যার জন্য আপনি অস্বীকার করতে বাধ্য হবেন! যাই হোক, আপনি যদি এখন ঐ শর্ত না মেনে কোন বিকল্প উপায়ে ঐ চুক্তিপত্র এড়িয়ে পিসিতে ফায়ারফক্স ইনস্টল করেন তাহলেই কিন্তু আপনি চুরি করলেন! শব্দান্তরে পাইরেসি ঘটালেন!
লিনাক্সের জগতে একটি প্রভাবশালী নাম হলো রেডহ্যাট লিনাক্স। রেডহ্যাট কোম্পানির তৈরি এন্টারপ্রাইজ লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশনটি বেশ চড়া দামে কিনতে হয়। একহন কেউ যদি সেটাকে চুরি করে কোন বিকল্প উপায়ে ইনস্টলের ব্যবস্থা করেন তবে তাকে আপনি কি বলবেন? সেটা সোজা ভাষায় পাইরেসি।
তাহলে কি এই রাক্ষস গুলা কেবলি টাকা কামিয়ে যাবে?
আসলে ব্যাপারটা দেখার দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য। আজকে হাজারো লিনাক্স প্রেমীর চক্ষুশূল হলো মাইক্রোসফ্ট । কিন্তু ভেবে দেখুন, সারা দুনিয়ার অনেক সেরা প্রোগ্রামার, ডেভেলোপারকে মাইক্রোসফট প্রচুর অর্থের বিনিময়ে ধরে রেখেছে! হ্যাঁ সার্বিক বিপণন এবং মূল্য নির্ধারণের বিচারে হয়তবা সেটা খুব বেশি নয়। যা খরচ, হয়তো বা তার কয়েক গুণ বিক্রয় মূল্য! কিন্তু, আপনার অন্তত একটা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসাবে তাদের সম্মান করা উচিৎ। বাংলাদেশের একটা কোমল পানীয়ের বোতলের পেছনে হয়তোবা খরচ হয় ৫ টাকা, সেটা কি আপনি ১৫ টাকা দিয়ে কিনছেন না? রাক্ষস খোক্ষস কিছুই না, আসলে বাজার টিকিয়ে রাখতে হলে এমনটার দরকার আছে!
আরে ভাই তোমার সমস্যাটা কি?
খেউ কেউ হয়তোবা এর মাঝেই ভাবতে শুরু করেছেন, এই লোক বলতে টা চাচ্ছে কি? আমি বলতে চাচ্ছি যে চলুন আমরা লিনাক্স-উইন্ডোজ-সান বা ম্যাকিন্টোশ যেটাই ব্যবহার করি না কেন, পাইরেসি কে না বলি এবং সাধ্যমত আসল (জেনুইন) সফটওয়্যার ব্যবহার করি! কিনতে না পারলে বিনামূল্যে যেসব সফটওয়্যার পাওয়া যায় সেগুলো ব্যবহার করবো! যেমন ধরুন, কয়েকশত ডলার দিয়ে মাইক্রোসফট অফিস কিনতে না পারলে চলুন "ওপেন অফিস" ব্যবহার করি! ফটোশপ কেনার গাদা গাদা টাকা না থাকলে চলুন "গিম্প বা জিম্প" ব্যবহার করি! তবে সাধ্যের মাঝে হলে দেশীয় সফটওয়্যার শিল্পের বিকাশের খাতিরে হলেও দেশে তৈরি সফটওয়্যার কিনুন অথবা নির্মাতাদের সাহায্য করুন!
চলুন পাইরেসি কে না বলি! পাইরেসি এড়িয়ে চলি!


