পরিবেশ বাঁচাতে বেশি করে গুরম্নত্ব দেয়া হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন এবং ব্যবহার বৃদ্ধির উপর। এই খাতে বরাদ্দ বাড়াচ্ছে এডিবি। ইতিমধ্যে সবুজ জ্বালানির জন্য সহায়ক আইন করেছে অস্ট্রেলিয়া। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও।
জলবায়ু পরিবর্তন আর পরিবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন গোটা বিশ্ব। একদিকে উন্নত বিশ্বের কার্বন নির্গমন অব্যাহত। আর অন্যদিকে দরিদ্র জাতিগোষ্ঠীর দুর্ভোগ আর ঝুঁকি। তবে এর বাইরেও নেয়া হচ্ছে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ। এসব পদক্ষেপের একটি হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন ও ব্যবহার।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক সম্প্রতি ঘোষণা করেছে, পরিবেশ বান্ধব জ্বালানির জন্য অর্থায়ন করবে তারা। মূলত জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতেই এডিবি’র এই উদ্যোগ। ম্যানিলাভিত্তিক এই ব্যাংকের প্রধান হারম্নহিকো কুরোদা। গত সপ্তাহে তিনি জানান, প্রতি বছর শুধুমাত্র পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি খাতে এডিবি দেবে দুই বিলিয়ন বা ২শ’ কোটি ডলার। ২০১৩ সাল থেকেই শুরম্ন হচ্ছে এই কর্মসূচি। তাহলে এই সবুজ জ্বালানির জন্য কি বসে থাকতে হবে ২০১৩ পর্যন্ত? না, তা নয়। বরং ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এই খাতে এডিবি সহায়তা করছে বছরে এক বিলিয়ন ডলার করে। আর তিন বছরের ব্যবধানে এই খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হবে দ্বিগুণ।
এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য নতুন নতুন প্রযুক্তি তৈরি ও স্থাপনে একটি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে এডিবি’র। কুরোদা আরো জানান, ইতিমধ্যে ইন্দোনেশিয়া, কুক আইল্যান্ডস, মার্শাল আইল্যান্ডস, মাইক্রোনেশিয়া, পূর্ব তিমির এবং টোঙ্গায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন ও ব্যবহারে সহায়তা দিচ্ছে এডিবি। এদিকে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক আইন অনুমোদন করল অস্ট্রেলিয়ার সিনেট। এই আইনের লক্ষ্য ২০২০ সাল নাগাদ ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন। এই আইনের ফলে সবুজ জ্বালানি খাতে প্রায় ১৯ বিলিয়ন বা এক হাজার নয় শত কোটি ডলার বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত হলো। দেশটির পরিবেশ মন্ত্রী পেনি ওঙ্গ এই আইনকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এর ফলে অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানের চেয়ে চারগুণ বাড়বে পরিবেশ বান্ধব জ্বালানির ব্যবহার। এখন সংসদের নিম্ন কক্ষে অনুমোদন হতে হবে এই আইন। আর প্রয়োগ শুরম্ন ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে। তাঁর প্রত্যাশা, ২০২০ সাল নাগাদ সে দেশের বাসা-বাড়িগুলোতে যতোটা বিদ্যুৎ দরকার তার সবটুকুই আসবে বায়ু, সূর্য কিংবা অন্য কোন পরিবেশ বান্ধব উৎস থেকে।
জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম শিকার বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিক থেকে। জার্মানিসহ বেশ কিছু উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা এক্ষেত্রে সহায়তা করছে বাংলাদেশকে। আর সরকারও পরিবেশ বান্ধব জ্বালানির উৎপাদন ও ব্যবহারে গ্রহণ করছে বেশ কিছু কর্মসূচি। বিশেষ করে জৈব গ্যাস এবং সৌর শক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়ে উদ্বুদ্ধ করছে সারাদেশের মানুষকে। এমনকি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বাতি বিতরণ করা হয়েছে জনগণের মাঝে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত জ্বালানি বিষয়ক সাময়িকী ‘এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার’-এর সম্পাদক মোল্লা আমজাদ হোসেন বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার এবং এর সংরক্ষণ- এই দু’টি বিষয় নিয়েই কাজ হচ্ছে বাংলাদেশে। এক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সরকার এখন ভাবছে বায়ুর যে সম্ভাবনা সেটা কাজে লাগানোর কথা। এছাড়া জৈবব্যাসের উপর জোর দেয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, লাইটিং লোড প্রায় ৫০০ মেগাওয়াট সেভ করার জন্য সরকার দুই কোটি আশি লক্ষ সিএসএল বাতি বিনা পয়সায় বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথম ধাপে ইতোমধ্যে ৪০ লক্ষ বিতরণ করা হয়েছে। ২০১১ সালের মধ্যেই এটার কাজ সম্পন্ন হবে। একই সাথে এই বিষয়গুলো প্রয়োগ করার জন্য ফিডিং ট্যারিফ বা গ্রিন ট্যারিফ করা যায় কি না এটা নিয়ে সরকার ভাবছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এছাড়া কনজারভেশন অ্যাক্ট খসড়া পর্যায়ে আছে, এটা নিয়েও কাজ করছে সরকার। সাথে সাথে টেকসই জ্বালানি উৎপাদন কতর্ৃপক্ষ গঠন করার জন্য কাজ এগুচ্ছে এবং এটাতে জার্মান সরকার সহায়তা দিচ্ছে। ডয়চে ভেলে



