আমি লিনাক্স বিষয়ে কিছুই জানিনা। কিন্তু উইন্ডজ খুব ভালো মত বুঝি। এতে কি লিনাক্স ব্যবহার করতে পারবো? না কি ভাল প্রোগ্রামার হতে হবে?
কে ডি ই ৩ এবং কে ডি ই ৪ বলতে কি বুঝালেন? আমি বুঝি নাই। দয়া করে যদি উইন্ডোজ-এর কোন দিক উল্লেখ করে পার্থক্যটির উদাহরণ দেন, তাহলে কৃতজ্ঞ হবো।
সম্প্রতি, ফোরামের একজন সদস্য এভাবে আমাকে একটি বার্তা পাঠান। আমি তাকে কথা দেই যে, এ বিষয়ে কিছু না কিছু লিখব। যদিও আমার জ্ঞান সীমিত, তারপরেও সাদামাটা বাংলায় একটু বর্ণনা করার চেষ্টা করলাম এখানে:
__________________________________________________________
লিনাক্স কি?
অনেকেরই প্রশ্ন , লিনাক্স জিনিসটা-ই বা কি? "লিনাক্স" শব্দটা একটা "অপারেটিং সিসটেম" কে নির্দেশ করে, যার প্রাণ হলো "লিনাক্স কার্ণেল" (মনোলিথিক)।
"উইন্ডোজ এক্সপি" একটা অপারেটিং সিসটেম। সাদা কথায়, আপনার পিসি তে হার্ডওয়্যারের পর পর-ই যে জিনিসটি আপনাকে পিসি চালাতে সাহায্য করে সেটাই হলো অপারেটিং সিসটেম। অপারেটিং সিসটেমের প্রান বলতে কার্নেল কেই বুঝায়। আপনি উইনডোজে যেই "Welcome Screen" দেখেন সেটার পিছনের কাজ কর্ম গুলো অনেক জটিল; আর, সেই জটিল কাজ কর্মগুলোর ভিত্তি হলো , কার্ণেল।
মাইক্রোসফটের দাবী উইনডোজ CE এর পর থেকে সবগুলো-ই এ"হাইব্রীড কার্ণেল" এর উপরে তৈরি।
ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট:
লিনাক্স কার্ণেল ভিত্তিক অপারেটিং সিসটেম গুলোর একটা সুবিধা হলো, এগুলোতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই একাধিক ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট থাকে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই , এক্সপি আর ভিস্তার পার্থক্য হলো চেহারায়। তাই যদি হয়, তবে, এক উবুন্টু-র-ই ৪ রকম চেহারা আছে।
- ১।উবুন্টু
২।কে-বুন্টু (KUBUNTU)
৩।এডু-উবুন্টু
৪।এক্স-উবুনটু
আমরা যারা নিজেরা বা বড় ভাই-বোন-বাবা-মামাদের ডস ব্যবহার করতে দেখেছি, তারা জানি, যে উইন্ডোজ সারা জীবন এক রকম ছিল না। একসময়ে , মাউস বলতে কিছুই ছিল না। সব চলত কী-কমান্ডের উপর ভর করে। লিনাক্সের-ও এমন দিন গিয়েছে। শুধু যে গিয়েছে তা না, অনেক লম্বা একটা সময় গিয়েছে এমন। সে কারণেই বেশিভাগ মানুষের ধারণা, লিনাক্স চালাতে হলে অনেক কিছু জানা লাগবে, কমান্ড মুখস্থ করা লাগবে কিংবা "বস" পাবলিক হওয়া লাগবে। তো, এই কমান্ড বেইজড কালো বা এক কালারের স্ক্রীণ থেকে বের হবার জন্য , ডেভেলোপাররা নিয়ে আসেন, ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট । ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট গুলোর কাজ হলো আপনার কমপিউটার ব্যবহার আরো স্বচ্ছন্দ্য করে তোলা।
কয়েকটা পরিচিত ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট হলো:
- GNOME
KDE
XFCE
EDE
XFAST
WORKBENCH
আরও জানতে দেখুন: http://en.wikipedia.org/wiki/Desktop_environment
GNOME এবং KDE:
নাম টা অনেকে অনেক ভাবে উচ্চারণ করেন। কেউ "জিনোম" কেউ "নোম" আবার কেউ "গুহ-নোম"।তবে, আমি বেশি শুনেছি "নোম"।
তো, নোম একটি অত্যন্ত সহজ ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট। এর উৎপত্তি হয়, কেডিই এর কিছু আইনি জটিলতার কথা চিন্তা করে। ১৯৯৬ তে যখন কেডিই যাত্রা শুরু করে তখন "সম্পূর্ণ বিনামূল্যের" সফটওয়্যার কেডিই-র ভিত্তি ছিল একটি প্রোপ্রাইটরী এবং ব্যয়বহুল টুলকিট। কিন্তু, জি-এন-ইউ এর ডেভেলোপাররা চিন্তায় পড়ে যান এই ভেবে যে, ওপেনসোর্স ফ্রী সফটওয়্যারের গোড়াতেই যদি একটা নন-ফ্রী সফটওয়্যার থাকে তাহলে ওপেনসোর্স আন্দোলন ব্যহত হতে পারে। এই চিন্তায়, শুরু হয় নোম বানানোর প্রজেক্ট। নোমের ভিত্তি হলো GTK+ (জিম্প টুল কিট) অন্যদিকে কে ডি ই এর বেইস হলো Qt উইজেট টুলকিট। দিনে দিনে ২ প্রজেক্টই জনপ্রিয়তা পেতে থাকে। ডেভেলোপাররা ২ এনভায়রনমেন্টকে কেন্দ্র করেই সফটওয়্যার বানাতে শুরু করেন। তবে, সফটওয়্যার নিয়ে সমস্যা খুব একটা হয় না, একমাত্র ভিজুয়্যাল এক্সপ্রেশন ছাড়া।
GNOME এবং KDE ভার্সন:
ওপেনসোর্সের মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে , দুনিয়াজোড়া ডেভেলোপাররা যখন সফটওয়্যার বানাতে বা আরো উন্নত করতে ব্যস্ত, তখন, ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট গুলোর নির্মাতারাও ব্যস্ত হয়ে যান আরো উন্নত ভার্সন দিতে। এভাবেই, গত ১১ বছরে নোমের ১৬ টির মত সম্পূর্ণ এবং আংশিক রিলিজ এসে গেছে। কেডিই অন্যদিকে সমান সময়ে ১২ টি রিলিজ দিয়েছে। কেডিইর ভার্সন গুলো ৪টি সিরিজে এসেছে। শুরুর দিকে কেডিই ১ এবং ২। এর পরে অনেক দিন কেডিই ৩ এ বিভিন্ন সংস্করণ। সর্বশেষ এ বছরের জানুয়ারীর ১১ তারিখ কেডিই ৪.০ রিলিজ হলো। নোমের সর্বশেষ ভার্সন আসবার কথা আছে, এ বছর সেপ্টেম্বর এ ।
ব্যবহার:
আমার মত, উইন্ডোজ দিয়ে যাদের কমপিউটারে হাতে খড়ি, তাদের কাছে ব্যাপারটা অনেকটা থীম ব্যবহার করবার মত। যেমন , একটা সাধারণ উবুন্টু আর কে-উবুন্টুর চেহারার পার্থক্য নিজেই দেখুন:
উবুন্টুর (নোম) ডিফল্ট ডেস্কটপ:

কে-উবুন্টু-র (KUBUNTU) ডিফল্ট ডেস্কটপ (কেডিই ৪):

উবুন্টুর মেনু:

কে-উবুন্টুর (KUBUNTU) স্টার্ট মেনু:

এই ছিল, কেডিই এবং নোম নিয়ে কথাবার্তা। আশা করি যাদের সংশয় ছিলো যে "কেডিই কি জিনিস?", তারা কিছুটা হলেও বুঝতে পারবেন।
ধন্যবাদ




