রক্তদান সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী

স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় আলোচনা এবং হেলথ টিপস (এ বিভাগের কোন লেখা চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয় )
User avatar
বিপ্রতীপ
প্রশাসক
Posts: 2025
Joined: Thu Sep 13, 2007 4:31 am
রক্তের গ্রুপ: B+
লাইসেন্স: by-nc-nd (Creative Commons)
Location: গণকযন্ত্রের সামনে...
Contact:

রক্তদান সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী

Post by বিপ্রতীপ » Fri Sep 14, 2007 6:13 pm

রক্তের প্রয়োজন যাদের:
১. দূঘর্টনাজনিত রক্তক্ষরণ -
দূঘর্টনায় আহত রোগীর জন্য দূঘর্টনার ধরণ অনুযায়ী রক্তের প্রয়োজন হয়।
২. দগ্ধতা -
আগুন পুড়া বা এসিডে ঝলসানো রোগীর জন্য পাজমা/রক্তরস প্রয়োজন। এজন্য ৩-৪ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন।
৩. অ্যানিমিয়া -
রক্তে R.B.C. এর পরিমাণ কমে গেলে রক্তে পযার্প্ত পরিমাণ হিমোগোবিনের অভাবে অ্যানিমিয়া রোগ হয়। হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়াতে R.B.C. এর ভাঙ্গন ঘটে ফলে
৪. থ্যালাসেমিয়া -
এক ধরনের হিমোগোবিনের অভাবজনিত বংশগত রোগ। রোগীকে প্রতিমাসে ১-২ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়।
৫. হৃদরোগ -
ভয়াবহ Heart Surgery এবং Bypass Surgery এর জন্য ৬-১০ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন।
৬. হিমোফিলিয়া -
এক ধরনের বংশগত রোগ। রক্তক্ষরণ হয় যা সহজে বন্ধ হয় না, তাই রোগীকে রক্ত জমাট বাধার উপাদান সমৃদ্ধ Platelete দেয়া হয়।
৭. প্রসবকালীন রক্তক্ষরণ -
সাধারণত প্রয়োজন হয় না তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে ১-২ বা ততোধিক ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়।
৮. ব্লাড ক্যান্সার-
রক্তের উপাদানসূমহের অভাবে ক্যান্সার হয়। প্রয়োজন অনুসারে রক্ত দেয়া হয়।
৯. কিডনী ডায়ালাইসিস -
প্রতিবার ডায়ালাইসিস-এ ১ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন।
১০. রক্ত বমি -
এ রোগে ১-২ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়।
১১. ডেঙ্গু জ্বর -
এ রোগে ৪ ব্যাগ রক্ত হতে ১ ব্যাগ Platelete পৃথক করে রোগীর শরীরে দেয়া হয়।
১২. অস্ত্রপচার -
অস্ত্রপচারের ধরণ বুঝে রক্তের চাহিদা বিভিন্ন।


রক্তদানের যোগ্যতা :
সাধারনত একজন সুস্থ ব্যাক্তি চার মাস অন্তর অন্তর রক্তদান করতে পারেন। এবার দেখে নেয়া যাক রক্তদানের যোগ্যতাসমূহ-
বয়স – ১৮-৫৭ বছর।
ওজন - ১০০ পাউন্ড বা ৪৭ কেজির উর্ধ্বে।
তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ( অনুচক্রিকা , রক্তরস ) ওজন ৫৫ কেজি বা তার উর্ধ্বে। রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলে।
রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ৭৫% বা তার উর্ধ্বে থাকলে। সম্প্রতি ( ৬-মাস ) কোন দূঘর্টনা বা বড় ধরনের অপারেশন না হলে।
রক্তবাহিত জটিল রোগ যেমন-ম্যালেরিয়া, সিফিলিস , গনোরিয়া, হেপাটাইটিস , এইডস, চর্মরোগ , হৃদরোগ , ডায়াবেটিস , টাইফয়েড এবং বাতজ্বর না থাকলে।
কোন বিশেষ ধরনের ঔষধ ব্যবহার না করলে।
চার মাসের মধ্যে যিনি কোথাও রক্ত দেননি।
মহিলাদের মধ্যে যারা গর্ভবতী নন এবং যাদের মাসিক চলছে না।



রক্তদান ও রক্ত দানের পর-
রক্তদানের আগে প্রতিটি রক্তদাতাকে তার স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কিছু ব্যক্তিগত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জিজ্ঞাসা করা হয়। সেগুলোর সঠিক উত্তর দিতে হবে। রক্তদাতার শারীরিক তাপমাত্রা, রক্তচাপ, নাড়ীর গতি পরীক্ষা করা হয় এবং রক্তদাতার রক্ত জীবানুমুক্ত কি না তা জানার জন্য সামান্য রক্ত নেয়া হয়। এছাড়া এই রক্তের মাধ্যমে রোগী রক্তদাতার রক্তের মধ্যে কোন জমাটবদ্ধতা সুষ্টি হয় কি না তাও পরীক্ষা করা হয় (ক্রসম্যাচিং)। রক্ত পরীক্ষার পর কারও রক্তে এইডস, হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস -সি, সিফিলিস বা অন্য কোন জীবানুর উপস্থিতি ধরা পরলে তাকে (রক্তদাতা) প্রয়োজেনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের পরামর্শ দেয়া হয়।সূঁচের অনুভূতি পাওয়ার মাধ্যমে রক্তদান প্রক্রিয়া শুরু হয়। এতে সময় লাগে সবোর্চ্চ ১০ মিনিট। রক্তদানের পূর্বে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে- যথেষ্ট বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা।রক্তদাতা প্রয়োজন মনে করলে বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারে।রক্তদানের সময় মাথা- শরীর সমান্তরাল থাকতে হবে। দূর হতে রক্ত দিতে এলে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে হবে। রক্ত দান করার পরে অবশ্যই নুন্যতম ৫ মিনিট শুয়ে থাকতে হবে। [রক্তের প্রবাহ সমগ্র শরীরে স্বাভাবিক হবার জন্য এটা অতীব জরুরী]। সাধারণত রক্তদান করার পর অতিরিক্ত দামী খাবার গ্রহনের প্রয়োজন নেই। তবে রক্তদানের পর সপ্তাহ খানেক স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি অন্যান্য সময়ের দ্বি-গুণ পানি পান করতে হবে। কেননা একজন রক্তদাতা যেটুকু রক্ত দান করেন [সাধারণত ১ পাউন্ড] তার প্রায় ৬০ ভাগ ঐ সময়ের মধ্যে পূরণ হয়। শুধু লোহিত রক্ত কণিকা পূরণ হতে ১২০ দিন বা ৪ মাস সময় নেয়। রক্তদানের পর অবশ্যই তারিখ মনে রাখতে হবে। [প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই কার্ড সরবরাহ করে]।
বেশিরভাগ রক্ত দাতাই রক্তদানের পর কোন সমস্যা অনুভব করেন না। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে রক্তদাতা তলপেটে ব্যাথা, দূবর্লতা, মাথা ঘোরা, সূঁচ প্রবেশের স্থানে ক্ষত লালচে দাগ এবং ব্যাথা অনুভব করতে পারেন। সামান্য কিছু ক্ষেত্রে রক্তদাতা জ্ঞান হারাতে পারে বা মাংসপেশীতে খিচুনি ধরতে পারে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব সমস্যা ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ঠিক হয়ে যায়, কোন ঔষধের প্রয়োজন হয়না।


রক্তদানের সুবিধা:
প্রতি ৪ মাস অন্তর রক্ত দিলে দেহে নতুন BLOOD CELL সৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকগুন বেড়ে যায়।
নিয়মিত রক্তদানে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে বলে হৃদপিন্ড বিশেজ্ঞরা মনে করেন।
স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে আপনি জানতে পারেন আপনার শরীর রক্তবাহিত মারাত্মক রোগ যেমন-হেপাটাইটিস-বি, এইডস, সিফিলিস ইত্যাদির জীবাণু বহন করছে কিনা।
স্বেচ্ছায় রক্তদানে মানসিক প্রশান্তি আসে।
রক্তদানের মাধ্যমে একটি জীবন বাঁচানো পৃথিবীর সবোর্চ্চ সেবার অর্ন্তভুক্ত।


তথ্যসূত্রঃ
বাঁধন
স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন

User avatar
উন্মাতাল তারুণ্য
সমন্বয়ক
Posts: 2944
Joined: Sat Sep 15, 2007 3:48 pm
রক্তের গ্রুপ: O+
লাইসেন্স: by-nc-nd (Creative Commons)
স্ট্যাটাস: অনুগ্রহপূর্বক আমাকে 'techie', 'geek', 'savvy', 'nerd', 'IT expert', 'Linux expert' ইত্যাদি তৈল মর্দিত সম্বোধন করা থেকে বিরত থাকুন।
Location: ২৩°৪২′০″ উত্তর, ৯০°২২′৩০″ পূর্ব
Contact:

Re: রক্তদান সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী

Post by উন্মাতাল তারুণ্য » Fri Sep 21, 2007 1:03 am

জরুরী প্রয়োজনের সময় রক্তের অপ্রতুলতা আমাদের বাধ্য করে পেশাদার রক্তদাতার অনিরাপদ রক্ত কিনতে। রক্ত পেয়ে হয়ত সেই সময় বেঁচে ওঠে প্রিয়জন। তারপর ধুঁকে ধুঁকে এগোতে থাকে মৃত্যুর দিকে। অথচ আমাদের একটু সচেতনতাই হয়ত এদের মুখে ফোটাতে পারত হাসি।

এই বিষয়ে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন নির্মিত একটি প্রামাণ্য চিত্র রয়েছে। (এটি অনলাইনে বিনামূল্যে দেখা কিংবা ডাউনলোড করা যাবে।)

Image
" 'কত বড়ো আমি' কহে নকল হীরাটি। তাই তো সন্দেহ করি নহ ঠিক খাঁটি॥ " - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

User avatar
বিপ্রতীপ
প্রশাসক
Posts: 2025
Joined: Thu Sep 13, 2007 4:31 am
রক্তের গ্রুপ: B+
লাইসেন্স: by-nc-nd (Creative Commons)
Location: গণকযন্ত্রের সামনে...
Contact:

Re: রক্তদান সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী

Post by বিপ্রতীপ » Fri Sep 21, 2007 2:01 am

উন্মাতাল তারুণ্য wrote:জরুরী প্রয়োজনের সময় রক্তের অপ্রতুলতা আমাদের বাধ্য করে পেশাদার রক্তদাতার অনিরাপদ রক্ত কিনতে। রক্ত পেয়ে হয়ত সেই সময় বেঁচে ওঠে প্রিয়জন। তারপর ধুঁকে ধুঁকে এগোতে থাকে মৃত্যুর দিকে। অথচ আমাদের একটু সচেতনতাই হয়ত এদের মুখে ফোটাতে পারত হাসি।
এই বিষয়ে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন নির্মিত একটি প্রামাণ্য চিত্র রয়েছে।
উন্মাতাল তারুণ্য,
আমাদের স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে পেশাদার রক্তদাতাদের প্রতিহত করতে হবে। আমাদের দেশে প্রতি বছর রক্তের চাহিদা প্রায় সাড়ে চার লক্ষ ব্যাগ। অথচ আমরা প্রায় পনেরো কোটি মানুষ সেই চার লক্ষ ব্যাগ রক্ত যোগাড় করতে পারি না। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক...

User avatar
আলোকিত
সমন্বয়ক
Posts: 3424
Joined: Wed Sep 19, 2007 10:16 pm
লাইসেন্স: by-nc-nd (Creative Commons)
পছন্দ করি: কেডিই ৪, উবুন্টু, ফায়ারফক্স
Location: ঢাকা, বাংলাদেশ
Contact:

Re: রক্তদান সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী

Post by আলোকিত » Sat Sep 22, 2007 7:12 pm

মানুষের দেহে অন্য কোন প্রাণীর রক্ত দেয়া যায় না?

User avatar
উন্মাতাল তারুণ্য
সমন্বয়ক
Posts: 2944
Joined: Sat Sep 15, 2007 3:48 pm
রক্তের গ্রুপ: O+
লাইসেন্স: by-nc-nd (Creative Commons)
স্ট্যাটাস: অনুগ্রহপূর্বক আমাকে 'techie', 'geek', 'savvy', 'nerd', 'IT expert', 'Linux expert' ইত্যাদি তৈল মর্দিত সম্বোধন করা থেকে বিরত থাকুন।
Location: ২৩°৪২′০″ উত্তর, ৯০°২২′৩০″ পূর্ব
Contact:

Re: রক্তদান সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী

Post by উন্মাতাল তারুণ্য » Tue Sep 25, 2007 2:35 am

আলোকিত wrote:মানুষের দেহে অন্য কোন প্রাণীর রক্ত দেয়া যায় না?
ভাল কথা! এই রকম কিছু তো শুনি নাই। আসো তোমারে দিয়াই টেস্ট করি... তা কিসের রক্ত নিবা? গরু, ছাগল না গাধা?

[মাইন্ড খাইলে খাও... মজা করার লোভ সামলাইতে পারলাম না। :s) ]
" 'কত বড়ো আমি' কহে নকল হীরাটি। তাই তো সন্দেহ করি নহ ঠিক খাঁটি॥ " - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

User avatar
উন্মাতাল তারুণ্য
সমন্বয়ক
Posts: 2944
Joined: Sat Sep 15, 2007 3:48 pm
রক্তের গ্রুপ: O+
লাইসেন্স: by-nc-nd (Creative Commons)
স্ট্যাটাস: অনুগ্রহপূর্বক আমাকে 'techie', 'geek', 'savvy', 'nerd', 'IT expert', 'Linux expert' ইত্যাদি তৈল মর্দিত সম্বোধন করা থেকে বিরত থাকুন।
Location: ২৩°৪২′০″ উত্তর, ৯০°২২′৩০″ পূর্ব
Contact:

Re: রক্তদান সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী

Post by উন্মাতাল তারুণ্য » Tue Sep 25, 2007 2:42 am

বিপ্রতীপ wrote:
উন্মাতাল তারুণ্য wrote:জরুরী প্রয়োজনের সময় রক্তের অপ্রতুলতা আমাদের বাধ্য করে পেশাদার রক্তদাতার অনিরাপদ রক্ত কিনতে। রক্ত পেয়ে হয়ত সেই সময় বেঁচে ওঠে প্রিয়জন। তারপর ধুঁকে ধুঁকে এগোতে থাকে মৃত্যুর দিকে। অথচ আমাদের একটু সচেতনতাই হয়ত এদের মুখে ফোটাতে পারত হাসি।
এই বিষয়ে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন নির্মিত একটি প্রামাণ্য চিত্র রয়েছে।
উন্মাতাল তারুণ্য,
আমাদের স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে পেশাদার রক্তদাতাদের প্রতিহত করতে হবে। আমাদের দেশে প্রতি বছর রক্তের চাহিদা প্রায় সাড়ে চার লক্ষ ব্যাগ। অথচ আমরা প্রায় পনেরো কোটি মানুষ সেই চার লক্ষ ব্যাগ রক্ত যোগাড় করতে পারি না। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক...
দুঃখজনক না, লজ্জাজনক। আমরা এমনই অকর্মণ্য-ল্যাংড়া জাতি যে প্রয়োজনের সময় ভারত থেকে রক্ত পর্যন্ত আমদানি করতে হয়। :e আর ভুটানের মত দেশে রক্ত উদ্বৃত্ত থাকে... :e :e :e
" 'কত বড়ো আমি' কহে নকল হীরাটি। তাই তো সন্দেহ করি নহ ঠিক খাঁটি॥ " - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

User avatar
আলোকিত
সমন্বয়ক
Posts: 3424
Joined: Wed Sep 19, 2007 10:16 pm
লাইসেন্স: by-nc-nd (Creative Commons)
পছন্দ করি: কেডিই ৪, উবুন্টু, ফায়ারফক্স
Location: ঢাকা, বাংলাদেশ
Contact:

Re: রক্তদান সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী

Post by আলোকিত » Wed Sep 26, 2007 7:47 pm

উন্মাতাল তারুণ্য wrote:
আলোকিত wrote:মানুষের দেহে অন্য কোন প্রাণীর রক্ত দেয়া যায় না?
ভাল কথা! এই রকম কিছু তো শুনি নাই। আসো তোমারে দিয়াই টেস্ট করি... তা কিসের রক্ত নিবা? গরু, ছাগল না গাধা?

[মাইন্ড খাইলে খাও... মজা করার লোভ সামলাইতে পারলাম না। :s) ]
মাইন্ড খাই নাই... রোজা আছি :z
অন্য প্রাণীর রক্ত না হোক... রক্তের বিকল্প হিসাবে কৃত্তিম রক্ত তো একদিন আসবেই তাই না? :-?

User avatar
omicronlab
নিয়মিত সদস্য
Posts: 172
Joined: Fri Sep 28, 2007 12:12 am
রক্তের গ্রুপ: AB+

Re: রক্তদান সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী

Post by omicronlab » Fri Sep 28, 2007 1:05 pm

রক্তদানের সুবিধা:
প্রতি ৪ মাস অন্তর রক্ত দিলে দেহে নতুন BLOOD CELL সৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকগুন বেড়ে যায়।
নিয়মিত রক্তদানে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে বলে হৃদপিন্ড বিশেজ্ঞরা মনে করেন।
স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে আপনি জানতে পারেন আপনার শরীর রক্তবাহিত মারাত্মক রোগ যেমন-হেপাটাইটিস-বি, এইডস, সিফিলিস ইত্যাদির জীবাণু বহন করছে কিনা।
স্বেচ্ছায় রক্তদানে মানসিক প্রশান্তি আসে।
রক্তদানের মাধ্যমে একটি জীবন বাঁচানো পৃথিবীর সবোর্চ্চ সেবার অর্ন্তভুক্ত।
ব্লাড সেল তৈরীর প্রবণতা বেড়ে যায় ঠিক আছে। তবে বাকিগুলোতে দ্বিমত আছে। স্ক্রিনিং রক্তদান না করেও করা যায়, খুব বেশি খরচের ব্যাপার না। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সাথে রক্তদানের সম্পর্ক নেই। আর হৃদরোগের ঝুকির ব্যাপারটাতেও আমি সন্দিহান। দেখা যায় যারা দীর্ঘদিন নিয়মিত ৪ মাস পরপর রক্তদান করেন কিছুটা ক্ষতি হয়ই। বেশিরভাগই কিছুটা অ্যানিমিক হয়ে পড়েন। কিন্তু একটা জীবনের প্রশ্নের কাছে এই ক্ষতি এতটাই তুচ্ছ যে এটা নিয়ে না ভাবলেও চলে। তাই বলব, নিজের কোন উপকারের আশায় রক্তদান করার কোন যুক্তি নেই। মানুষের উপকারে মানুষের স্বেচ্ছায়ই এগিয়ে আসা উচিত। সন্ধানী, মেডিসিন ক্লাব, বাঁধন সবগুলোতেই নিয়মিত রক্ত দেই। একুশে ফেব্রুয়ারী, পহেলা বৈশাখের ক্যাম্পেইনগুলোতেও স্বেচ্ছায় অংশ নেই। "মানসিক প্রশান্তি আসে" - এটার চেয়ে বড় কারণ আসলে আর কিছু নেই। :C
মেহ্‌দী হাসান খান

Image

User avatar
উন্মাতাল তারুণ্য
সমন্বয়ক
Posts: 2944
Joined: Sat Sep 15, 2007 3:48 pm
রক্তের গ্রুপ: O+
লাইসেন্স: by-nc-nd (Creative Commons)
স্ট্যাটাস: অনুগ্রহপূর্বক আমাকে 'techie', 'geek', 'savvy', 'nerd', 'IT expert', 'Linux expert' ইত্যাদি তৈল মর্দিত সম্বোধন করা থেকে বিরত থাকুন।
Location: ২৩°৪২′০″ উত্তর, ৯০°২২′৩০″ পূর্ব
Contact:

Re: রক্তদান সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী

Post by উন্মাতাল তারুণ্য » Sat Sep 29, 2007 10:41 pm

omicronlab wrote:
রক্তদানের সুবিধা:
প্রতি ৪ মাস অন্তর রক্ত দিলে দেহে নতুন BLOOD CELL সৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকগুন বেড়ে যায়।
নিয়মিত রক্তদানে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে বলে হৃদপিন্ড বিশেজ্ঞরা মনে করেন।
স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে আপনি জানতে পারেন আপনার শরীর রক্তবাহিত মারাত্মক রোগ যেমন-হেপাটাইটিস-বি, এইডস, সিফিলিস ইত্যাদির জীবাণু বহন করছে কিনা।
স্বেচ্ছায় রক্তদানে মানসিক প্রশান্তি আসে।
রক্তদানের মাধ্যমে একটি জীবন বাঁচানো পৃথিবীর সবোর্চ্চ সেবার অর্ন্তভুক্ত।
ব্লাড সেল তৈরীর প্রবণতা বেড়ে যায় ঠিক আছে। তবে বাকিগুলোতে দ্বিমত আছে। স্ক্রিনিং রক্তদান না করেও করা যায়, খুব বেশি খরচের ব্যাপার না। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সাথে রক্তদানের সম্পর্ক নেই। আর হৃদরোগের ঝুকির ব্যাপারটাতেও আমি সন্দিহান। দেখা যায় যারা দীর্ঘদিন নিয়মিত ৪ মাস পরপর রক্তদান করেন কিছুটা ক্ষতি হয়ই। বেশিরভাগই কিছুটা অ্যানিমিক হয়ে পড়েন। কিন্তু একটা জীবনের প্রশ্নের কাছে এই ক্ষতি এতটাই তুচ্ছ যে এটা নিয়ে না ভাবলেও চলে। তাই বলব, নিজের কোন উপকারের আশায় রক্তদান করার কোন যুক্তি নেই। মানুষের উপকারে মানুষের স্বেচ্ছায়ই এগিয়ে আসা উচিত। সন্ধানী, মেডিসিন ক্লাব, বাঁধন সবগুলোতেই নিয়মিত রক্ত দেই। একুশে ফেব্রুয়ারী, পহেলা বৈশাখের ক্যাম্পেইনগুলোতেও স্বেচ্ছায় অংশ নেই। "মানসিক প্রশান্তি আসে" - এটার চেয়ে বড় কারণ আসলে আর কিছু নেই। :C
ডাক্‌তর সাহিব আ গায়া .... :C :clap:
স্ক্রিনিং রক্তদান না করেও করা যায়, খুব বেশি খরচের ব্যাপার না।
মেডিনোভায় কোটেশন পাইছিলাম পাঁচ খান টেস্টের (HIV/AIDS, HBV, HCV, Syphilis and Malaria) সেবামূল্য: টাকা ২,৭৫০/- মাত্র। :8

রক্ত দিবার পর কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন থিকা সাম্প্রতিক টেস্ট রিপোর্ট ( পুরা ফ্রি :C )পাইছি:

HIV/AIDS = Non-Reactive
Hepatitis-B = Negative
Hepatitis-C = Negative
Syphilis = Non-Reactive
Malaria = Not Found

:C :C :C :C :v :v :D/ :D/ :D/ :D/
" 'কত বড়ো আমি' কহে নকল হীরাটি। তাই তো সন্দেহ করি নহ ঠিক খাঁটি॥ " - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

User avatar
omicronlab
নিয়মিত সদস্য
Posts: 172
Joined: Fri Sep 28, 2007 12:12 am
রক্তের গ্রুপ: AB+

Re: রক্তদান সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী

Post by omicronlab » Sat Sep 29, 2007 10:59 pm

উন্মাতাল তারুণ্য wrote:
স্ক্রিনিং রক্তদান না করেও করা যায়, খুব বেশি খরচের ব্যাপার না।
মেডিনোভায় কোটেশন পাইছিলাম পাঁচ খান টেস্টের (HIV/AIDS, HBV, HCV, Syphilis and Malaria) সেবামূল্য: টাকা ২,৭৫০/- মাত্র। :8

রক্ত দিবার পর কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন থিকা সাম্প্রতিক টেস্ট রিপোর্ট ( পুরা ফ্রি :C )পাইছি:

HIV/AIDS = Non-Reactive
Hepatitis-B = Negative
Hepatitis-C = Negative
Syphilis = Non-Reactive
Malaria = Not Found

:C :C :C :C :v :v :D/ :D/ :D/ :D/
এগুলাতো ভাই সেবার নামে গলা কাটার ব্যবসা। হেপাটাইটিস-বি এর এক ডোজ ভ্যাক্সিন (অ্যাডাল্টের জন্য)এর দাম পপুলারে চেয়েছিল ১৫০০ টাকা। সরকারী কোন মেডিকেল কলেজে সোজা সন্ধানী বা মেডিসিন ক্লাবে চলে যান, একই ভ্যাক্সিন, সবগুলো ডোজ (মোট ৪টা)দিতেও এত খরচ পড়ে না। এইসব ক্লাব মেডিকেলের স্টুডেন্টরাই চালায়, এরাও লাভ করে, ভ্যাক্সিনের কোল্ড চেইন মেইনটেইন করা হয় ঠিকমত, তাহলে এরা দেয় কিভাবে?

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কেস অবশ্য আলাদা। এদের কোটি টাকার উপরে ফান্ড আছে শুধু ব্লাড কালেকশনের জন্য। সেইম টেস্টগুলো সন্ধানীও (শুধু ঢাকা মেডিকেল ইউনিট) ফ্রি করে বিশেষ বিশেষ দিনে, অন্য ইউনিটগুলোর পক্ষে এটা সম্ভব হয় না ফান্ডের অভাবে।
মেহ্‌দী হাসান খান

Image

Post Reply

Return to “স্বাস্থ্য প্রযুক্তি”