শিগগিরই ফুরিয়ে যাচ্ছে না গ্যাস

বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও নবায়নযোগ্য শক্তি বিষয়ক আলোচনা।
Post Reply [phpBB Debug] PHP Warning: in file [ROOT]/vendor/twig/twig/lib/Twig/Extension/Core.php on line 1275: count(): Parameter must be an array or an object that implements Countable
User avatar
matchless
নিবন্ধিত সদস্য
Posts: 48
Joined: Mon Nov 05, 2007 3:30 pm
রক্তের গ্রুপ: B+
[phpBB Debug] PHP Warning: in file [ROOT]/vendor/twig/twig/lib/Twig/Extension/Core.php on line 1275: count(): Parameter must be an array or an object that implements Countable

শিগগিরই ফুরিয়ে যাচ্ছে না গ্যাস

Post by matchless » Sat Jun 14, 2008 4:43 pm

শিগগিরই ফুরিয়ে যাচ্ছে না গ্যাস
অরুণ কর্মকার

শিগগিরই ফুরিয়ে যাচ্ছে না দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস। এমনকি ২০১১ সালের পর থেকে সব ক্ষেত্রে গ্যাসের সরবরাহ কমতে থাকার যে পূর্বাভাস রয়েছে, সে ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, এ সময়ের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাসের নতুন মজুদ আবিষ্ককারের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। সংশ্লিষ্ট সরকারি সুত্রে এ খবর জানা গেছে।
একই সঙ্গে সঞ্চালনব্যবস্থায় যে সীমাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে সিলেট অঞ্চলের গ্যাস চট্টগ্রাম অঞ্চলে চাহিদামতো পৌঁছানো যাচ্ছে না, চলতি বছরের মধ্যেই সে সীমাবদ্ধতারও অবসান ঘটবে বলে সুত্রগুলো জানায়।
২০১১ সালে কী হবে: নানা ধরনের প্রচারের কারণে সাধারণভাবে এমন একটা ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে ২০১১ সাল এলেই দেশের গ্যাস শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তব অবস্থা হলো−বর্তমানে দেশে গ্যাসের যে প্রমাণিত মজুদ রয়েছে, এর সঙ্গে আর কোনো নতুন আবিষ্ককার যুক্ত না হলে ২০১১ সাল থেকে সব ক্ষেত্রে গ্যাসের সরবরাহ পর্যায়ক্রমে কমানো শুরু করতে হবে। কিন্তু এর সঙ্গে সম্ভাব্য মজুদ প্রায় আট ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ), যা পাওয়ার সম্ভাবনা ধরা হয় ৯৫ শতাংশ, সেই গ্যাস প্রমাণিত মজুদের সঙ্গে যুক্ত হলে ২০১১ সাল থেকে কমানোর পরিবর্তে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সব খাতে গ্যাসের ব্যবহার বাড়ানো যাবে। এ ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের পর সব খাতে গ্যাসের সরবরাহ পর্যায়ক্রমে কমানো শুরু করতে হবে।
আর এর সঙ্গে যদি অনুমিত মজুদের (প্রায় ৩০ টিসিএফ, যা পাওয়ার সম্ভাবনা ধরা হয় ৫০ শতাংশ) এক-চতুর্থাংশও আবিষ্ককৃত হয়, তাহলে সব ক্ষেত্রে গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া শুরু করার সময়টি আরও পিছিয়ে যাবে। এর পরও নতুন গ্যাস অনুসন্ধানের আরও কিছু সুযোগ থেকে যাবে।
গ্যাসের মজুদের এই হিসাব দেশের স্থলভাগের এবং সমুদ্রতীরবর্তী একটি ব্লকের, যেখানে কেয়ার্ন এনার্জি কাজ করছে। এরপর সমুদ্রবক্ষের ক্ষেত্রগুলো তো রয়েছেই।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ম তামিম বলেন, ‘যেকোনো সম্পদ ব্যবহার করতে করতে একসময় তো শেষ হবেই। সুতরাং আমাদের গ্যাসও চিরদিন থাকবে না। তবে দেশে আরও গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আমার বিশ্বাস। এ জন্য নতুন অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা দরকার। প্রয়োজনীয় জ্বালানির চাহিদা মিটিয়ে দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে হলে এর বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার অনুসন্ধানের সেই উদ্যোগ নিয়েছে।’
অধ্যাপক তামিম বলেন, এ ছাড়া সম্ভাব্য ও অনুমিত মজুদের যে হিসাব রয়েছে, সেগুলোও জরিপের মাধ্যমে হালনাগাদ করা প্রয়োজন। তবে নরওয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রের ভুতাত্ত্বিক জরিপের হিসাবে সম্ভাব্য মজুদ যে আট টিসিএফ ধরা হয়েছে, এই গ্যাসকুপ খনন করলেই পাওয়া যাবে। এর পাশাপাশি কয়লা উত্তোলনের পদক্ষেপ নিতে হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনটা পুরোপুরি কয়লাভিত্তিক করতে হবে। গ্যাস ব্যবহার করতে হবে শিল্প, সার ও সিএনজিতে।
বর্তমান সংকট কেন: এ বছর হঠাৎ করে গ্যাসের এমন সংকট সৃষ্টি হয়েছে যে সার কারখানায় দিলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়, আবার বিদ্যুৎ উৎপাদনে দিলে শিল্প-কারখানা চলে না। চট্টগ্রামে নতুন সংযোগ দেওয়াই বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এ অবস্থা কেন হলো জানতে চাইলে ড. তামিম বলেন, গত প্রায় ১০ বছর নতুন গ্যাসক্ষেত্রে অনুসন্ধান বন্ধ থাকাই এর একমাত্র কারণ। আর চট্টগ্রামের কথা বিশেষ করে বলতে গেলে সাঙ্গুতে উৎপাদন অর্ধেক কমে যাওয়ার কথা বলতে হবে, যার সঠিক পূর্বাভাস ছিল না। তবে আগামী ডিসেম্বর নাগাদ চট্টগ্রামে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে।
তবে গত বছরের মার্চের পর এখন পর্যন্ত গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট বেড়ে যাওয়াটা গ্যাসের চাহিদার একটা ব্যতিক্রমী প্রবৃদ্ধি বলে অন্যান্য সুত্র জানায়। গত বছরের মার্চে শেভরনের বিবিয়ানা ক্ষেত্রে উৎপাদন শুরু হয়। এখন এই ক্ষেত্র থেকে প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। অবশ্য এই সময়ে সাঙ্গু ক্ষেত্রে ছয়-সাত কোটি ঘনফুট উৎপাদন কমেছে।
বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে: এ বছরের গ্যাসসংকটে ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরা আতঙ্কিতই হয়ে পড়েছেন। শুধু চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলগুলোতেই প্রায় ৩০০ কারখানায় বিনিয়োগ ঝুলে আছে গ্যাসের সংযোগ বন্ধ থাকায়। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, সাভার প্রভৃতি এলাকায়ও অনেক বিনিয়োগের অবস্থা এ রকমই।
এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক তামিম প্রথম আলোকে বলেছেন, গ্যাসের বর্তমান এই সংকট সাময়িক। আর সঞ্চালনব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা না থাকলে চট্টগ্রাম অঞ্চলেও এতটা সংকট হতো না; সিলেট অঞ্চল থেকে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ করা যেত।
গ্যাস আসবে কোত্থেকে: পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ ২০১১ সালের আগেই গ্যাসের বড় মজুদ আবিষ্ককারের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা স্বীকার করেছেন। প্রথম আলোর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১২ নম্বর ব্লকভুক্ত মৌলভীবাজার এলাকায় বর্তমানে শেভরন যে ত্রিমাত্রিক জরিপ চালাচ্ছে, আগামী অক্টোবরে তার ফলাফল জানা যাবে। এখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস পাওয়ার ব্যাপারে শেভরন আশাবাদী। সে ক্ষেত্রে এখানে কুপ খনন করে আগামী বছরই (২০০৯ সাল) এই ক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব। শেভরনের সুত্রও একই মত প্রকাশ করেছে।
কেয়ার্ন এনার্জির একটি সুত্র জানায়, সমুদ্রবক্ষের মগনামায় গ্যাসের বড় মজুদ আবিষ্ককারের ব্যাপারে তারা আশাবাদী। যদিও সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে তারা সেখানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের সন্ধান পায়নি, তবে ত্রিমাত্রিক জরিপ করা হলে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যাবে বলে তারা প্রায় নিশ্চিত। এর আগের একটি জরিপের ফলাফলেও মগনামায় অন্তত তিন টিসিএফ গ্যাসের মজুদ রয়েছে বলে জানা গিয়েছিল। এরপর ১৯৯৯ সাল থেকে একাধিকবার কেয়ার্ন সেখানে ত্রিমাত্রিক জরিপের অনুমতি চেয়ে এসেছে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জানান, পেট্রোবাংলা সম্প্রতি কেয়ার্নকে মগনামায় ত্রিমাত্রিক জরিপ চালানোর অনুমতি দিয়েছে। ২০০৮ সালের শীত মৌসুমে কেয়ার্ন এই জরিপ চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। গ্যাস পাওয়া গেলে ২০১২ সালে সেখান থেকে গ্যাস তোলা সম্ভব হবে। সে ক্ষেত্রে ২০১১ সালের পর গ্যাসের ব্যবহার ক্রমাগতভাবে কমিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে যে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে, তা আর থাকবে না।
অনুসন্ধান অনেক বাকি: পেট্রোবাংলার সুত্র জানায়, আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর (আইওসি) সঙ্গে উৎপাদন অংশীদারি চুক্তি (পিএসসি) সম্পাদিত হয়েছে এমন অনেক ব্লকে অনুসন্ধানের আরও অনেক বাকি আছে, যেমন−পাঁচ নম্বর ব্লকে সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী প্রায় ৬৯ লাইন কিলোমিটার এবং ১০ নম্বর ব্লকে এক হাজার ২৩৩ লাইন কিলোমিটার এলাকায় কেয়ার্ন এনার্জি জরিপ সম্পন্ন করেছে। সাত নম্বর ব্লকে শেভরন এক হাজার ৪৭ লাইন কিলোমিটার এলাকায় জরিপ সম্পন্ন করেছে। এসব সম্ভাবনাময় জায়গায় এখন অনুসন্ধান বা পরীক্ষামূলক কুপ খনন করে দেখা হবে। ১৭ ও ১৮ নম্বর ব্লকে ২০১০ সালের মধ্যে অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য ফরাসি কোম্পানি টোটাল ই অ্যান্ড পির সঙ্গে পেট্রোবাংলার একটি সংশোধিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর পাশাপাশি সমুদ্রবক্ষে অনুসন্ধানের যে প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে, সেগুলো থেকেও পর্যায়ক্রমে ফলাফল আসতে থাকবে।
পেট্রোবাংলার সুত্র জানায়, হাইকোর্টের একটি স্থগিতাদেশের কারণে স্থলভাগের অনেক স্থানে জরিপ ও গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ বন্ধ হয়ে আছে।
বিদ্যমান ক্ষেত্রগুলো: স্থলভাগের বিদ্যমান ক্ষেত্রগুলো থেকেও ২০১১ সাল পর্যন্ত কিছু উৎপাদন বাড়বে। এ বছরই সাড়ে ছয় কোটি ঘনফুট নতুন গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এর মধ্যে আগামী জুলাই-আগস্টে ফেঞ্চুগঞ্জ ক্ষেত্র থেকে দেড় কোটি, আগস্টে বাঙ্গুরা থেকে তিন কোটি এবং ডিসেম্বরে বাখরাবাদ ক্ষেত্র থেকে দুই কোটি ঘনফুট গ্যাস উঠবে। বাখরাবাদের এ দুই কোটি ঘনফুটই চট্টগ্রামে সরবরাহ করা যাবে।
এ ছাড়া আগামী বছর সাড়ে চার কোটি (শাহবাজপুর ক্ষেত্র থেকে দুই কোটি, মেঘনা থেকে দেড় কোটি এবং বাখরাবাদ থেকে এক কোটি) ঘনফুট নতুন গ্যাস পাওয়া যাবে। ২০১০ সালে পাওয়া যাবে ১৮ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে তিতাস ক্ষেত্রে খনন করা দুটি নতুন কুপ থেকে পাঁচ কোটি, বেগমগঞ্জ থেকে তিন কোটি, নোয়াখালীর সুন্দুলপুর থেকে তিন কোটি, হবিগঞ্জ ১২ নম্বর কুপ থেকে আড়াই কোটি, কৈলাশটিলা সাত নম্বর কুপ থেকে আড়াই কোটি এবং সেমুতাং থেকে দুই কোটি ঘনফুট গ্যাস ওঠানো সম্ভব হবে। ২০১১ সালে শ্রীকাইল থেকে তিন কোটি ঘনফুট নতুন গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
বর্তমানে তিনটি দেশীয় কোম্পানি− বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি ও বাপেক্স মোট ১২টি ক্ষেত্রের ৪৭টি কুপ থেকে দৈনিক ৯০ থেকে ৯২ কোটি ঘনফুট গ্যাস তুলছে। এ ছাড়া চারটি আইওসি−কেয়ার্ন, শেভরন, নাইকো ও টাল্লো মোট ছয়টি ক্ষেত্রের ৩১টি কুপ থেকে ৮৩ থেকে ৯১ কোটি ঘনফুট গ্যাস তুলছে।
আইওসিগুলোর কাছ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারদরে গ্যাস কিনে দেশীয় দামে বিক্রি করায় পেট্রোবাংলার প্রতিদিন লোকসান হচ্ছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা। প্রতিদিন প্রায় ২১ কোটি টাকার গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে।


সূত্র- প্রথম আলো।
http://www.prothom-alo.com/index.news.d ... d=MTY3MDU=

Post Reply [phpBB Debug] PHP Warning: in file [ROOT]/vendor/twig/twig/lib/Twig/Extension/Core.php on line 1275: count(): Parameter must be an array or an object that implements Countable
[phpBB Debug] PHP Warning: in file [ROOT]/vendor/twig/twig/lib/Twig/Extension/Core.php on line 1275: count(): Parameter must be an array or an object that implements Countable
[phpBB Debug] PHP Warning: in file [ROOT]/vendor/twig/twig/lib/Twig/Extension/Core.php on line 1275: count(): Parameter must be an array or an object that implements Countable

Return to “বিদ্যুৎ ও জ্বালানী”