বোকা-সোকা প্রশ্নঃ লিনাক্স ও ভাইরাস

লিনাক্স সম্পর্কিত আলোচনা
User avatar
অভ্রনীল
প্রযুক্তি মনষ্ক
Posts: 1507
Joined: Sun May 24, 2009 6:42 pm
লাইসেন্স: by-nc-sa(Creative Commons)
স্ট্যাটাস: উবুন্টু ১০.০৪ [ল্যুসিড লিংক্স]
Location: ঢাকা
Contact:

বোকা-সোকা প্রশ্নঃ লিনাক্স ও ভাইরাস

Post by অভ্রনীল » Fri Jun 26, 2009 8:44 pm

[মাত্র লিনাক্স ব্যবহার করা শুরু করেছি, তাই এক্কেবারে কিছুই জানিনা। অজ্ঞতার কারনে অনেক অপরিপক্ক প্রশ্ন মাথার মধ্যে আসে যেগুলো হয়ত বাঘা বাঘা লিনাক্সবোদ্ধাদের কে জিজ্ঞেস করলে বাঁকা হাসি দিবে! তারপরও তো জানতে হবে, অন্তত নিজের তাগিদেই। তাই মাঝে মধ্যেই আমার এইসব বোকা-সোকা প্রশ্নগুলো নিয়ে ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাটি করি। মাঝমধ্যে পেয়ে যাই, কখনো বা লিঙ্কের সাগরে তলিয়ে যাই, কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই এত কাঠখোট্টা-টেকি কথা থাকে যে আমার মত নাদান লিনাক্স-ইউজাররা কঠিনভাবে ভড়কায় যায়। তবে আমি ভড়কায় গেলেও চেষ্টা থামাইনা, কারন আমাকে লিনাক্সের জ্ঞান নিতে হবে, শাস্ত্রে বলা আছে জ্ঞান নিতে সুদূর চীন পর্যন্ত যেতে হবে, কিন্তু চৈনিক সাইটগুলাতে চৈনিক ভাষা ব্যবহার করায় কাজটা আমার জন্য আরো জটিল হয়ে গেছে! যাই হোক নাদান মনের বোকা বোকা সেসব প্রশ্ন নিয়েই এই পোস্ট। আশাকরি সবার সহযোগিতায় একেবারে জলবৎ-তরলনং-উত্তরং পাব।]



সবাই বলে লিনাক্সে ভাইরাস এ্যাটাক করেনা। কথাটা কতটুকু সত্যি? উইকিপিডিয়ায় দেখলাম লিনাক্সের ভাইরাস নিয়ে আর্টিকেল আছে। সেখানে আবার এন্টিভাইরাস ইন্সটল করার লিঙ্ক ও দিয়ে দিয়েছে। আমার সামান্য জ্ঞান দিয়ে আমি যতদূর বুঝি লিনাক্সে যেহেতু কোন প্রোগ্রাম আপনাআপনি চালু হয় না সেহুতু ভাইরাস এ্যাটাক করার সম্ভাবনা কম। সিনাপ্টিক বা এ্যাড/রিমুভ অপশন দিয়ে সিস্টেমে ভাইরাস, ম্যালওয়্যার ইত্যাদি হাবিজাবি ইন্সটল হওয়া কি সম্ভম? উবুন্টুতে এন্টিভাইরাস ইন্সটল করা কতটুকু দরকার? নাকি আদৌ কোন দরকার নাই?

টিউটো
নিবন্ধিত সদস্য
Posts: 20
Joined: Fri Jun 26, 2009 5:43 pm
লাইসেন্স: সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
পছন্দ করি: ঘুমাইতে আর চিন্তা করতে
Contact:

বোকা-সোকা প্রশ্নঃ লিনাক্স ও ভাইরাস

Post by টিউটো » Fri Jun 26, 2009 9:10 pm

জ্ঞানিরাই প্রশ্ন করে। সবাই প্রশ্ন করতে জানে না। প্রশ্ন কখনো বোকা হয় না।

ভাইরাস যেহেতু সফটওয়্যার, তাই লিনাক্সেও হতে পারে, মোবাইলের জাভা সফটেও হতে পারে, ভবিষ্যতে রোবোটরে মনে হয় ভাইরাস ধরবো।
তয় কথা হইল- যার শরীর যত বড় তার রোগ তত বেশী..আবার এক প্রানীর রোগ অন্য প্রানীতে সংক্রমন নাও হইতে পারে.....বুঝাইতে পারলাম কিনা জানি না।
পড়ালেখা করতাম চাইছিলাম। পারি নাই। পারলে জজ বেরিস্টার বা ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বা এই জাতীয় কোন নাম আমার আসল নামটা কিন্না ফালাইত।

User avatar
অয়ন খান
প্রযুক্তি মনষ্ক
Posts: 2159
Joined: Wed Dec 17, 2008 6:32 pm
রক্তের গ্রুপ: B+
লাইসেন্স: by-nc-sa(Creative Commons)
স্ট্যাটাস: ব্যস্ততার ∞ লুপে আটকে আছি!
পছন্দ করি: তথ্য প্রযুক্তি, ফ্রি এ্যান্ড ওপেন সোর্স সফটওয়্যার, লিনাক্স, লিনাক্স মিন্ট, কেডিই, পিএইচপি
Location: ঢাকা, বাংলাদেশ


বোকা-সোকা প্রশ্নঃ লিনাক্স ও ভাইরাস

Post by অয়ন খান » Fri Jun 26, 2009 10:12 pm

অভ্রনীল ভাই আপনার প্রশ্নের উত্তর আপনার লেখাতেই রয়েছে। হ্যাঁ, লিনাক্সে ভাইরাস আক্রমণ সম্ভব তবে সেটা নিজ থেকে নয়। আপনি যদি ইচ্ছে করে রুট পাসওয়ার্ড প্রবেশ করিয়ে ভাইরাসকে আপনার কম্পিউটার গ্রাস করার সুযোগ দেন কেবল সেক্ষেত্রই সেটা সম্ভব। আর রিপোতে কোন প্যাকেজ তখনই আসে যখন সেটা অনুমোদন পায় যেমন উবুন্টুর রিপোতে কেবল তাদের অনুমোদিত প্যাকেজগুলোই পাওয়া যায়। তাই রিপোর মাধ্যমেও ভাইরাস প্রবেশ সম্ভব নয়। তাই লিনাক্সে কোন এন্টিভাইরাস জাতীয় সফটওয়্যারের প্রয়োজন নাই। >:D< প্রয়োজনে এই লিংক দেখতে পারেন। চিন্তার কোন কারণ নাই। কেননা সেখানে চীনা ভাষায় নয় বরং বাংলাতেই লেখা। :ttt:
<Blog> ayonkhan.com
<Me on> twitter.com/#!/ayonkhan | last.fm/user/ayonkhan

User avatar
invarbrass
প্রযুক্তি মনষ্ক
Posts: 897
Joined: Tue Apr 29, 2008 9:37 am
রক্তের গ্রুপ: O+

বোকা-সোকা প্রশ্নঃ লিনাক্স ও ভাইরাস

Post by invarbrass » Fri Jun 26, 2009 10:53 pm

অবশ্যই আছে। লিনাক্স ভাইরাস তৈরী করার উপর অস্ট্রেলিয়ান এক পিএইচডি ছাত্রের থিসিস (সোর্সকোড সহ) পর্যন্ত নেটে পাওয়া যায় (১০-১২ বছরের পুরণো যদিও)।

ভাইরাস সংক্রমণের ব্যাপারটা সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে ইউজারের উপর - একজন এ্যাভারেজ উইন্ডোজ ইউজার এবং ইউনিক্স ইউজারের মধ্যে পার্থক্য আশা করি বুঝিয়ে বলতে হবেনা।

ইউনিক্সে প্রায় ৪ দশক আগে থেকেই শক্তিশালী প্রিভিলেজ সিস্টেম চালু ছিলো। ডেবিয়ান, উবুন্টুর মত ডেস্কটপ ডিস্ট্রো এখন সাধারণ ব্যবহারকারীদের কথা চিন্তা করে sudo জাতীয় ফীচার জনপ্রিয় করেছে।

পক্ষান্তরে, উইন্ডোজ প্রায় ২০ বছরের পুরণো হলেও মাত্র ভিস্তা থেকে UAC চালু হয়েছে। এখানেই শেষ না, UAC সিস্টেমটি আবার উইন্ডোজ ৭-এ এমন অকার্যকর করে দিয়েছে যে ভাইরাস ছড়ানোর জন্য বলতে গেলে আর কোনও বাধাই রইলোনা।

রিভার্স এন্জিনিয়ারিং, ভাইরাস/ট্রোজান ইনফেক্সন সম্পর্কে এককালে নাড়াচাড়া করতাম - সেই সুবাদে বুঝেছি উইন্ডোজের ভিত্তি (কার্ণেল) অত্যন্ত সিকিউর, অন্তত: ইউনিক্সের চাইতে কোনও অংশে কম নয়। ইদানীং ক্র্যাকারদের ফোরামে দেখলাম তারা বলছে উইন্ডোজ, লিনাক্সের তুলনায় ম্যাক ওএসএক্স হ্যাক করা একদম পানি ভাত।

অপারেটিং সিস্টেমের বিভিন্ন প্রটেক্সন লেয়ার থাকে; যেমন উইন্ডোজের ক্ষেত্রে রিং ০ থেকে রিং ৩ বা ৪ পর্যন্ত। আমরা সাধারণ ইউজাররা যেসব প্রোগ্রাম যেমন অফিস, মিডিয়া প্লেয়ার ইত্যাদি ইউজারল্যান্ড এ্যাপ চালাই সেগুলো চলে রিং ৩-তে। একটি ভাইরাস সফলভাবে ইনফেক্ট করতে হলে সবগুলো প্রটেক্সন রিং পেনিট্রেট করতে হবে - উইন্ডোজের প্রাণ ভোমরা অর্থাৎ কার্ণেলের বসবাস রিং ০-তে। কোন ম্যালওয়ের একবার যদি রিং ০ প্রিভিলেজ পেয়ে যায় - সে যা ইচ্ছা তা করতে পারে, পুরো সিস্টেমটা তার হাতে চলে আসবে। উইন্ডোজ ৯X-এ রিং ০ প্রিভিলেজ পাওয়া খুবই সহজ ছিলো - ভাইরাসের মধ্যেই একটা ভুয়া ডিভাইস ড্রাইভার ঢুকিয়ে দিতো, ভাইরাসটি নিজে সরাসরি ইনফেক্ট করতে না পারলে ডিভাইস ড্রাইভারটি লুকিয়েচুরিয়ে ইনস্টল করে ফেলতো, পরেরবার রিবুট করলেই কেল্লা ফতেহ! ভাইরাসের ডিভাইস ড্রাইভারটি লোড হতো, এবং সে পুরো সিংহদরজা খুলে দিয়ে উইন্ডোজের একদম অন্দরমহলে নিয়ে যেতো ভাইরাসটিকে! এক্সপি থেকে এত সহজে রিং ০ পেনিট্রেশন অনেক কঠিন হয়ে পড়ে - কিন্তু তাতে কি আর নতুন সিকিউরিটি হোল আবিষ্কার করা বন্ধ থেকেছে? উইন্ডোজ এক্সপি যদি সুরক্ষিত হয়েই থাকে তবে এত ভাইরাস কেন?

কার্নেল সুরক্ষিত হলেও, উইন্ডোজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে অংশ - সেই ইউজারল্যান্ডই ভীষণভাবে অরক্ষিত।

শুরু থেকেই কিছু ইডিয়ট বিজনেস ইউজারদের জন্য পুরো উইন্ডোজ কমিউনিটিকেই বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে মাইক্রোসফট। একটি সহজ উদাহরণ দেই, উইন্ডোজে সিডি, পেনড্রাইভ বা কোন রিমুভেবল ড্রাইভ ঢোকালেই অটোরান করে - এই ফীচার সেই উইন্ডোজ ৯৫এর আমল থেকেই আছে। সিডিতে মুভি, ফটো বা জরুরী ডকুমেন্ট থাকলে ভালো, কিন্তু অটোরান ফাইলটি যদি ভাইরাস ইনফেক্টেড হয়? সর্বকালের সবচেয়ে সফল ভাইরাস কনফিকর (প্রায় ১০ মিলিয়ন মেশিন ইনফেক্ট করেছে বলে অনেকে দাবী করছে) সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে এই পদ্ধতিতে - কনফিকর ইনফেক্টেড ৯৫% পিসি উইন্ডোজ এক্সপিতে চলে।

ভিস্তায় কনফিকর খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি মূলত: UACর জন্য - ইউজার একটু বুদ্ধিমান হলেই অজানা প্রোগ্রামের UAC প্রম্পট ডিনাই করবে, ফলে ভাইরাসগুলোও নিজেকে আর ইনস্টল করতে পারবেনা। উইন্ডোজ ৭-এ বাই ডিফল্ট এটা অকার্যকর করে রাখছে মাইক্রোসফট - এর কারণও ঐ বেকুব ইউজাররা, ভিস্তার বিক্রি এত কম হবার পেছনে UAC সম্পর্কিত "অভিযোগ" দায়ী অনেকাংশে। এ্যাপারেন্টলী, ইউজারদের সঠিক নিরাপত্তার চাইতে অপারেটিং সিস্টেম বেচা মাইক্রোসফটের প্রায়োরিটি। ;) অনেক ইউজার খুশি, ভিস্তার "বিরক্তিকর" ব্যাপারটি আর থাকছেনা; মাইক্রোসফটও খুশি - ব্লগোস্ফিয়ারে উইন্ডোজ ৭-এর রিভিউ খুব পজিটিভ হচ্ছে! ক্রেতাদেরকে উইন্ডোজ ৭-এর সাথে লম্বা একটি দড়ি ফাউ উপহার দিচ্ছেনন বিল মামু, মেসেজ একদম ক্লিয়ার: go hang yourselves!

ম্যাক এবং উইন্ডোজ দু'টোরই এ্যাভারেজ ব্যবহারকারী আবুল টাইপের হয়। টেকনীকালী, উইন্ডোজের কার্ণেল ম্যাক-এর চাইতে অনেক সিকিউর হলেও প্র্যাক্টিকালী ম্যাক অনেক অনেক বেশি সিকিউর উইন্ডোজ থেকে - কারণ ম্যাকের ইউজারল্যান্ড মডেল অনেক সুচিন্তিত, ৪০ বছরের রক সলিড, ব্যাটল-টেস্টেড ইউনিক্স আইডিওলজী ফলো করে। মাইক্রোসফটের মত আজকে একটা ফীচার যোগ করে পরদিন ওটা বাদ দিয়ে দেয়না, ভোদাই মার্কা ইউজারদের সুবিধার জন্য সিস্টেমের ইন্টেগ্রিটি হুমকীর মুখে ঠেলে দেয়না।

এছাড়া ডেমোগ্রাফিক, পলিটিকাল ফ্যাক্টরও জড়িত - পৃথিবীর ৮০% এর বেশি পিসি উইন্ডোজে চলে। কাজেই, কেউ যদি ভাইরাস বানাতে চায়, ভাইরাসের রেজাল্ট ম্যাক্সিমাইজ করার জন্য সে স্বাভাবিকভাবেই উইন্ডোজকে টার্গেট করবে।

যেদিন উইন্ডোজের মত মার্কেট শেয়ার ম্যাক বা লিনাক্সের হবে, সেদিন এসব প্ল্যাটফর্মের জন্যও ভাইরাস ছাড়া শুরু হবে। ইতিমধ্যেই ম্যাকে ভাইরাস উৎপাত শুরু হয়ে গেছে। মাস দুয়েক আগে একটা সাইটে দেখেছিলাম, ম্যাকের জন্য এ্যাডোবি ফটোশপ সিএস৪-এর পাইরেটেড কপিতে ভাইরাস ছিলো। যেসব ইউজার ঐ সব সফটওয়্যার ইনস্টল করেছিলো তাদের মেশিন ইনফেক্টেড হয়েছিলো। অবশ্য ওই "ভাইরাস"টা পিএইচপি দিয়ে করা কোনো এ্যামেচার কোডারের কাজ - কোডের অবস্থা দেখলেই বোঝা যায় তাড়াহুড়ো করে কেউ বানিয়েছে। তবে ভবিষ্যতে আরো সফিস্টিকেটেড ভাইরাস অপেক্ষা করছে ম্যাক ইউজারদের জন্য এটা মোটামুটি নিশ্চিৎ।

গত কয়েক বছর ভাইরাস বানানোর পেছনে ইনসেন্টিভ বদলে গেছে। আগে ভাইরাস বানাতো বোরড, কিন্তু ব্রিলিয়ান্ট টিনেজাররা - বড়াই করার জন্য কে কত এ্যাডভান্সড পলিমর্ফিক, এন্ক্রিপ্টিং ভাইরাস বানাতে পারে তার প্রতিযোগীতা চলতো বিভিন্ন VX গ্রুপগুলোর মাঝে। এখন আর সেই "নিষ্পাপ" দিন নেই। গত কয়েক বছরে অর্গানাইজড ক্রাইম ঢুকে পড়েছে এই সেক্টরে - বিরাট অংকের টাকা হাত বদল হচ্ছে প্রতিদিন। বেশ কিছু ইস্টার্ণ ইউরোপীয়ান দেশ - বিশেষ করে প্রাক্তন সোভিয়েত দেশগুলো যেমন ইউক্রেন, রোমানিয়া, বাল্টিক এলাকা এমনকি চীন এসব দেশে প্রচুর ট্যালেন্টেড হ্যাকার আছে যারা টাকার বিনিময়ে ব্রেইন বিক্রি করতে রাজী। বিশেষ করে রাশিয়া এবং চীনে স্টেট স্পন্সরড সাইবার টেররিজম চলে। অনেকেরই হয়তো মনে আছে, গত বছর ছোট্ট দেশ এস্তোনিয়াকে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে একদম অচল করে রেখেছিলো রাশান হ্যাকাররা।

এস্তোনিয়ার কেইসটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ - এস্তোনিয়াকে ধরা হয় ভবিষ্যৎ পৃথিবীর ছায়া। সরকারী কাজ থেকে শুরু করে ব্যাংকিং সবকিছুই পেপার-লেস - তাদের সব কাজ অনলাইনে চলে। যেসব দেশ পেপার-লেস ই-গভর্নেন্স সিস্টেম চালু করতে চায় তাদের জন্য মডেল হলো এস্তোনিয়া। এবং এই ই-গভর্নেন্সই এস্তোনিয়ার জন্য Achilles heel হয়ে দাড়িয়েছিলো। কি কারণে মনে নেই, (সম্ভবত: লেনিনের মূর্তি সরিয়ে নিয়েছিলো তাদের সরকার) এস্তোনিয়ার সাথে রাশান সরকারের ভীষণ ঝগড়া শুরু হয়ে গেলো। এর ফাকে মস্কো ভিত্তিক একটি হ্যাকার গ্রুপ এস্তোনিয়ার বিরুদ্ধে সাইবার স্ট্রাইকের আহবান করলো সব রাশান হ্যাকারদের। এর ১ সপ্তাহের মাথায় হঠাৎ করে শুরু হলো ম্যাসিভ DoS এ্যাটাক - টার্গেট করা হলো এস্তোনিয়ান সরকারী সাইট, ব্যাংকিং, বিভিন্ন ইউটিলিটি যেমন পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ সাইট। এস্তোনিয়া মূলত: ল্যান্ড লকড একটি দেশ - তাদের দেশে ২টি ইন্টারনেট গেটওয়ে - একটি রাশিয়া থেকে এসেছে, অপরটি টার্কী দিয়ে গেছে। এস্তোনিয়ার সরকার দ্রুত রাশান গেটওয়ে বন্ধ করে দিলো। এরপরে মাত্র কয়েকঘন্টা আক্রমণ বন্ধ ছিলো, হ্যাকাররা যখন টের পেলো ঐ গেটওয়ে বন্ধ তখন তারা অন্য রুটে আক্রমণ শুরু করলো। এস্তোনিয়ার দুর্ভাগ্য: টার্কী থেকে যে কানেক্সনটি ছিলো, সেটাও ইস্তাম্বুল থেকে রাশিয়াতে ঢুকেছে। পুরো এক সপ্তাহ ধরে আক্রমণ চালু ছিলো - এবং এই ১ সপ্তাহ দেশটির জীবনযাত্রা পুরো স্থবির হয়ে ছিলো।

যাকগে, অনেক অফ টপিক বকবক করে ফেললাম। :sssss:

সোজা প্রশ্ন: আপনার যদি হাজার হাজার ইউজারের ব্যাংকিং ইনফরমেশন, ক্রেডিট কার্ড, পাসওয়ার্ড, ই-মেইল এ্যাড্রেস ইত্যাদি হার্ভেস্ট করা এবং তাদের পিসিগুলোকে রিমোট কন্ট্রোলড যম্বি স্প্যাম, ওপেন প্রক্সিতে পরিণত করার উদ্দেশ্য থাকে তবে কোন সিস্টেমটা টার্গেট করবেন???
Last edited by invarbrass on Sat Jun 27, 2009 1:03 am, edited 3 times in total.

User avatar
অয়ন খান
প্রযুক্তি মনষ্ক
Posts: 2159
Joined: Wed Dec 17, 2008 6:32 pm
রক্তের গ্রুপ: B+
লাইসেন্স: by-nc-sa(Creative Commons)
স্ট্যাটাস: ব্যস্ততার ∞ লুপে আটকে আছি!
পছন্দ করি: তথ্য প্রযুক্তি, ফ্রি এ্যান্ড ওপেন সোর্স সফটওয়্যার, লিনাক্স, লিনাক্স মিন্ট, কেডিই, পিএইচপি
Location: ঢাকা, বাংলাদেশ


বোকা-সোকা প্রশ্নঃ লিনাক্স ও ভাইরাস

Post by অয়ন খান » Fri Jun 26, 2009 11:16 pm

ইনভারব্রাশ ভাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ চমৎকার এই লেখার জন্য।
<Blog> ayonkhan.com
<Me on> twitter.com/#!/ayonkhan | last.fm/user/ayonkhan

User avatar
অভ্রনীল
প্রযুক্তি মনষ্ক
Posts: 1507
Joined: Sun May 24, 2009 6:42 pm
লাইসেন্স: by-nc-sa(Creative Commons)
স্ট্যাটাস: উবুন্টু ১০.০৪ [ল্যুসিড লিংক্স]
Location: ঢাকা
Contact:

বোকা-সোকা প্রশ্নঃ লিনাক্স ও ভাইরাস

Post by অভ্রনীল » Sat Jun 27, 2009 12:26 am

উড়াধুড়া লেখা ব্রাস ভাই... কঠিন হইসে! :thumb:
ডেবিয়ান, উবুন্টুর মত ডেস্কটপ ডিস্ট্রো এখন সাধারণ ব্যবহারকারীদের কথা চিন্তা করে sudo জাতীয় ফীচার জনপ্রিয় করেছে।
এই sudo জিনিসটা আসলে কি? কমান্ড প্রম্পটে এইটা লিখতে হয় এদ্দূর জানি। আরেকটা আছে su, এইটা্র কাজও জানিনা।

অয়ন ভাই, রুট ইউজার কাদের বলে? আমি যখন আমার ল্যাপটপে লগইন করি তখন কি আমি রুট ইউজার?

কত কিছু যে শিখার বাকী আছে! :oo:

User avatar
অয়ন খান
প্রযুক্তি মনষ্ক
Posts: 2159
Joined: Wed Dec 17, 2008 6:32 pm
রক্তের গ্রুপ: B+
লাইসেন্স: by-nc-sa(Creative Commons)
স্ট্যাটাস: ব্যস্ততার ∞ লুপে আটকে আছি!
পছন্দ করি: তথ্য প্রযুক্তি, ফ্রি এ্যান্ড ওপেন সোর্স সফটওয়্যার, লিনাক্স, লিনাক্স মিন্ট, কেডিই, পিএইচপি
Location: ঢাকা, বাংলাদেশ


বোকা-সোকা প্রশ্নঃ লিনাক্স ও ভাইরাস

Post by অয়ন খান » Sat Jun 27, 2009 12:58 am

root এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে মূল।অর্থাৎ root user অর্থ হচ্ছে মূল ব্যবহারকারী।Windows - এর Administrator এর সমতূল্য। আর sudo মানে হল Super User Do। অর্থাৎ এটা অনেকটা কম্পিউটারকে আদেশ দেবার মত। বাড়ির কর্তা যেমন আদেশ দেন সেরকম। আপনি কম্পিউটারকে sudo ব্যবহার করে কিছু করতে বললেন তখন কম্পিউটার আপনার কাছে পাসওয়ার্ড চেয়ে এটা নিশ্চিত করবে যে আপনিই হচ্ছেন মূল ব্যবহারকারী। তখন আপনাকে সবকিছু করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হবে।

আর su কমান্ডও sudo - এর মতই তবে তার থেকে একটু বেশি। আপনি যখন টার্মিন্যালে কোন কমান্ড sudo ব্যবহার করে লিখেন তখন sudo শুধু ঐ কমান্ডের জন্যই ব্যবহৃত হয়। আবার আরেকটি রুট প্রিভিলাইজ কমান্ড দেবার জন্য আপনাকে আবার sudo লিখতে হবে ঐ কমান্ডের আগে। আর su ব্যবহার করলে টার্মিন্যালে আর কোন কমান্ডের জন্য আপনাকে sudo কমান্ড লিখতে হবেনা। যেমন আপনি বানশি, ভিএলসি ও অপেরা ইনস্টল করবেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে টার্মিন্যালে লিখতে হবে, sudo apt-get install banshee, sudo apt-get install vlc ও sudo apt-get install opera। কিন্তু আপনি যদি প্রথমে su কমান্ড দিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে শুধু apt-get install দিয়েই সবগুলো ইনস্টল করতে পারবেন। যেমন প্রথমে লিখলেন su। এবার বানশি, ভিএলসি ও অপেরা ইনস্টল করতে শুধু apt-get install banshee, apt-get install vlc ও apt-get install opera দিলেই হবে। প্রতিবার sudo লিখতে হবে না। আর এই su কমান্ড নিষ্ক্রিয় করতে হলে exit লিখতে হবে।

দুঃখিত লেখাগুলো কেমন যেন গুলিয়ে গেছে। :-(((
<Blog> ayonkhan.com
<Me on> twitter.com/#!/ayonkhan | last.fm/user/ayonkhan

User avatar
উন্মাতাল তারুণ্য
সমন্বয়ক
Posts: 2944
Joined: Sat Sep 15, 2007 3:48 pm
রক্তের গ্রুপ: O+
লাইসেন্স: by-nc-nd (Creative Commons)
স্ট্যাটাস: অনুগ্রহপূর্বক আমাকে 'techie', 'geek', 'savvy', 'nerd', 'IT expert', 'Linux expert' ইত্যাদি তৈল মর্দিত সম্বোধন করা থেকে বিরত থাকুন।
Location: ২৩°৪২′০″ উত্তর, ৯০°২২′৩০″ পূর্ব
Contact:

বোকা-সোকা প্রশ্নঃ লিনাক্স ও ভাইরাস

Post by উন্মাতাল তারুণ্য » Sat Jun 27, 2009 2:04 am

sudo এর বদলে su ব্যবহার করা আমার মতে মোটেও বুদ্ধিমানে কাজ নয়। কারণ, sudo হচ্ছে অনেকটা অটো স্প্রিং লাগানো দরজার মত। আপনি শুধু দরজাটা খুললেই হবে। স্প্রিং আবার দরজাটা নিজে নিজেই লাগিয়ে দেবে। অন্যদিকে su -এ এই রকম স্প্রিং ওয়ালা দরজা টাইপ কিছু নাই। একবার যদি খোলেন আর পরে বন্ধ করতে কষ্ট লাগে বা ভুলে যান, চোর মামা এসে হাই-হ্যালো তো বলবেই।

অতএব অতিবুদ্ধিমানের মত "একবারেই সব" করতে গেলে আসলে বেকায়দা রকম ধরা খাবার সম্ভবনা খুবই প্রবল।
" 'কত বড়ো আমি' কহে নকল হীরাটি। তাই তো সন্দেহ করি নহ ঠিক খাঁটি॥ " - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

স্বপ্নচারী
সমন্বয়ক
Posts: 817
Joined: Sat Sep 15, 2007 10:26 pm
Location: কভেন্ট্রি, ইংল্যান্ড
Contact:

বোকা-সোকা প্রশ্নঃ লিনাক্স ও ভাইরাস

Post by স্বপ্নচারী » Sat Jun 27, 2009 4:40 am

su - switch user
মানে এটা দিয়ে ইউজার বদলানো যাবে। আমার যদি কম্পিউটারে একাধিক ইউজার থাকে। তাহলে এক ইউজারে লগইন থাকা অবস্থায় আরেক ইউজারের একাউন্টে প্রবেশ করার জন্য এই কমান্ড। এটা মাল্টি ইউজার এনভায়রনমেন্ট তৈরী করে। ধরি, আমার পিসিতে nasim, ayon, shabab ইত্যাদি কয়েকটা একাউন্ট আছে। এখন আমি লগইন করা আছি nasim ইউজার দিয়ে। কিন্তু shabab ইউজারের কিছু চটজলদি কাজ করা দরকার, আর আমারও গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম চলছে। তাহলে shabab এক্সেস করার জন্য nasim কে লগঅফ হতে হবে না বা সাসপেন্ড করতে হবে না। স্রেফ টার্মিনালে গিয়ে রান করতে হবে su shabab ব্যস, shabab এ লগইন হয়ে গেল। একই সময়ে একই ডেস্কটপে দু’জন ইউজার লগইন থাকলো। মূল ডেস্কটপ nasim এর থাকলেও সকল ধরণের প্রোগ্রাম চালানো যাবে shabab এর এক্সেসে সেই su টার্মিনাল থেকে। এভাবে যত খুশি ইউজারে লগইন করা যাবে একই সময়ে একই ডেস্কটপে।

অর্থাৎ
su USERNAME
ইউজার বদল করে। যদি USERNAME দেওয়া না হয়, তবে এটা রুট ইউজারে পরিবর্তিত হয় বাই ডিফল্ট।

অন্যদিকে sudo হচ্ছে - super user do
এটা ইউজারকে এক ধরণের ক্ষমতা প্রদান করে। যা দিয়ে রুট ইউজারের কাজ করতে পারে সেই ইউজার। এটার কাজ শুধু এইটুকুই। এটা শুধুমাত্র সেই ইউজারই ব্যবহার করতে পারবে যাকে এই ক্ষমতা দেয়া হয়। মানে sudoers-রাই কেবল sudo ব্যবহার করতে পারবে।

এ কারণেই sudo কমান্ডে ইউজারের নিজস্ব পাসওয়ার্ড দিতে হয়। কিন্তু su-তে যে ইউজারে যাওয়া হবে সেই ইউজারের পাসওয়ার্ড দিতে হয়। sudo এবং su দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রোগ্রাম ভিন্ন উদ্দেশ্যে তৈরী।

User avatar
অয়ন খান
প্রযুক্তি মনষ্ক
Posts: 2159
Joined: Wed Dec 17, 2008 6:32 pm
রক্তের গ্রুপ: B+
লাইসেন্স: by-nc-sa(Creative Commons)
স্ট্যাটাস: ব্যস্ততার ∞ লুপে আটকে আছি!
পছন্দ করি: তথ্য প্রযুক্তি, ফ্রি এ্যান্ড ওপেন সোর্স সফটওয়্যার, লিনাক্স, লিনাক্স মিন্ট, কেডিই, পিএইচপি
Location: ঢাকা, বাংলাদেশ


বোকা-সোকা প্রশ্নঃ লিনাক্স ও ভাইরাস

Post by অয়ন খান » Sat Jun 27, 2009 4:47 am

ধন্যবাদ স্বপ্নচারী ভাই বিষয়টা সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে দেবার জন্য।
<Blog> ayonkhan.com
<Me on> twitter.com/#!/ayonkhan | last.fm/user/ayonkhan

Post Reply

Return to “লিনাক্স”